সৃজনশীল ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে উপকৃত হচ্ছে কিশোর-কিশোরীরা

বনলতা নিউজ ডেস্ক.বনলতা নিউজ ডেস্ক.
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৮:৩১ PM, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি. কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন কিশোর-কিশোরীদের জীবনমানের উন্নয়নে সরকারের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছেন ক্লাব গুলো। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিশেষ করে নারী সমাজকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে এবং পারিবারিক বৈষম্যের শিকার কিশোরীদের সমাজের উন্নয়নের মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করতে সরকার দেশের জেলা উপজেলা ও পৌরসভায় গড়ে তুলেছেন কিশোর-কিশোরী ক্লাব স্থাপন প্রকল্প। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের লক্ষ্য বাস্তবায়নে আন্তরিকতার সাথে ক্লাব গুলোর কার্যক্রম চলছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের তত্ত¡াবধানে এসব ক্লাব পরিচালিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য বাস্তবায়নে সারাদেশের ন্যায় কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের ক্লাবের শিক্ষক ও জেন্ডার প্রোমোটার নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। পড়া শুনার পাশাপাশি ক্লাব গুলোতে ছুটির দিনে যেসব বিষয়য়ে আলোচনা করা হয়। যেমন: বয়সঃসন্ধিকালের সমস্যা কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, বাল্যবিবাহ, যৌতুক, নারী নির্যাতন, শিশু পাচার কীভাবে প্রতিরোধ করা যায় ইত্যাদি শেখানো হয়। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে কিশোর-কিশোরীরা উপকৃত হচ্ছে বলে জানান অনেকে।

শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকালের দিকে উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের কাশিয়াবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কিশোর কিশোরী ক্লাবের শিক্ষার্থীদের মাঝে আইডি কার্ড ও বই বিতরণ করা হয়। আইডি কার্ড বিতরণ কালে উপস্থিত ছিলেন,উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাজনীন আক্তার, জেন্ডার প্রোমোটার মাসুদ পারভেজ, যাদুরচর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মোছলেমা খাতুন, সংগীত শিক্ষক রাশেদা খাতুন রুনা , আবৃত্তি শিক্ষক নাসির হোসেনসহ আরও অনেকে।

শৌলমারী ইউনিয়ন ক্লাবের সংগীত শিক্ষক কায়সার আহমেদ লেবু বলেন, কিশোর অপরাধ থেকে কিভাবে নিজেকে রক্ষা করবে এবং দেশকে সুন্দর ভাবে গড়ে তুলতে হবে সে সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। এছাড়াও ক্লাব ভিত্তিক বাল্যবিয়ের বিরদ্ধে সমাজের মানুষের মাঝে জনসচেতন সৃষ্টি করছে কিশোর কিশোরী ক্লাব।

রৌমারী উপজেলার একজন জেন্ডার-প্রোমোটার মাসুদ পারভেজ জানান, প্রতিটি ক্লাবে মাসে একবার করে কিশোর-কিশোরীদের জেন্ডার ও সমতা ভিত্তিক সমাজ গঠন সম্পর্কে ক্লাবে ক্লাস নেন তিনি। এছাড়াও প্রত্যেকটি ক্লাবের জন্য একজন করে সংগীত শিক্ষক ও একজন করে আবৃতি শিক্ষক আছেন। সারা বাংলাদেশে এই পর্যন্ত সরকার ৪,৮৮৩ টি কিশোর-কিশোরী ক্লাব সরকারিভাবে চালু আছেন। রৌমারী উপজেলায় প্রতিটি ইউনিয়নে ১ টি করে মোট ছয়টি সরকারি কিশোর-কিশোরী ক্লাব আছে। ঝড়ে পড়া শিশুর পাশাপাশি প্রতিটি ইউনিয়নের/উপজেলার কাছাকাছি হাই স্কুল ও প্রাইমারী স্কুল থেকে ১০ জন কিশোর ও ২০ জন কিশোরী নিয়ে কিশোর-কিশোরী ক্লাব প্রতিষ্ঠা করা হয়। ক্লাবের সকল সদস্য ৫ম শ্রেণী থেকে ৯বম/১০ম ক্লাসের ছাত্র-ছাত্রী। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমরা নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছি। সরকারের ২০৪১ সালের ভিশন বাস্তবায়নে সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নমূলক কাজে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

রৌমারী উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাজনীন আক্তার বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সরকারি/বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সমাজের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব অগ্রাধিকার প্রকল্প এই কিশোর কিশোরী ক্লাব। সরাসরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই প্রকল্পের দায়িত্ব নিয়েছে। সমাজের ভালো-মন্দ দিকসহ যাবতীয় বিষয় সম্পর্কে নিয়মিত ও শিক্ষার্থী ,শিক্ষক, জেন্ডার প্রোমোটার, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি,ইউপি সদস্য, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও ইউপি চেয়ারম্যানের উপস্থিতে মাসিক আলোচনা সভা করা হয়। আমাদের এই ক্লাব গুলো সফলতার সাথে এগিয়ে যাচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন :