জেসমিনের খামারে এখন ১০০টি গরু

বনলতা নিউজ ডেস্ক.বনলতা নিউজ ডেস্ক.
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৮:১৪ PM, ২৩ অক্টোবর ২০২২

ইমরান আলী সোহাগ, দিনাজপুর. দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম শিবপুর। ওই গ্রামের স্কুলশিক্ষক আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী জেসমিন বেগম। তার চলার পথটা সহজ ছিল না। শুরুর দিকে বেশ কয়েকবার হোঁচটও খেয়েছেন। তবে দমে যাননি তিনি । ইউটিউব দেখে, পরিবারের পরামর্শ নিয়ে ২০০৫ সালে নিজের জমানো কিছু টাকা দিয়ে দুটি বাছুর কিনে শুরু করেন শখের খামার। এখন তার খামারে প্রায় শতাধিক গরু।

শুধু গরু লালন-পালন নয়, ১১৫ শতাংশ জমিতে গড়ে তুলেছেন ছাগল, হাঁস ও মাছের খামার। রয়েছে ফল ও সবজি বাগান। এখান থেকে তার প্রতি মাসে আয় হয় লাখ টাকা। পাশাপাশি তার খামারে স্থানীয় কয়েকজন যুবকের কর্মসংস্থানও হয়েছে।

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলা থেকে ১৫ কিলোমিটার পশ্চিমে জোতবানী ইউনিয়নের শিবপুর বাজারের পাশে দেখা মিলবে জেসমিনের খামারের। খামারের প্রবেশ মুখ দেখলে কিছু মনে না হলেও খানিকটা ভেতরে গেলে দেখা মিলবে শতাধিক গরুর একটি বিশাল খামার। আধুনিক পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়েছে খামারটি। গরু চুরি থেকে রক্ষা করতে নেওয়া হয়েছে করা নজরদারি। খামার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, গরুগুলোকে সময়মতো খাবার দেওয়া, গরুর যত্ন নেওয়াসহ খামারের বিভিন্ন কাজের জন্য রাখা হয়েছে ৬ জন যুবককে। খড় কাটার জন্য রয়েছে দুটি মেশিন।

খামারি জেসমিনের স্বামী আনোয়ার হোসেন বলেন, আমি পেশায় একজন শিক্ষক ও ব্যবসায়ী। স্কুলে পাঠদান ও ব্যবসা দেখাশোনার পাশাপাশি স্বামী হিসেবে জেসমিনকে সার্বিক সহযোগিতা করি। জেসমিনের ইচ্ছে ছিল শিক্ষকতা করার কিন্তু বিভিন্ন জটিলতার কারণে তা আর সম্ভব হয়নি। পরে দুটি গরু দিয়ে খামার শুরু করে। এখন ওর খামারে ১০০টির মতো গরু রয়েছে। পাশাপাশি হাঁস-মুরগি, ছাগল, মাছ চাষ করছে।

খামারে কর্মরত শ্রমিক মুসা আলী জানান, প্রায় এক বছর ধরে এই খামারে কাজ করি। আগে গ্রামে সব সময় কাজ থাকত না। সংসারে অভাব-অনটন লেগে থাকত। এখন জেসমিন আপার খামারে কাজ করায় প্রতি মাসে ভালা বেতন পাই। সংসারও ভালো চলে।

খামারে কর্মরত আরেক শ্রমিক আরমান হোসেন বলেন, আমি খামারে সাধারণত গরুর গোসল করাই আর দুধ দহন করি। সারা দিনে ৩০-৩৫টি গুরুর দুধ দহন করতে হয়। এতে যা পারিশ্রমিক পাই তা দিয়ে সংসার খুব ভালোভাবে চলে যায়।

জেসমিন বেগম বলেন, শখের বসে নিজের জমানো টাকা দিয়ে দুটা বাছুর কিনি। আল্লাহর রহমতে এখন আমার খামারে ১০০টি গরু রয়েছে। খামারের ফ্রিজিয়ান জাতের গাভিগুলো প্রতিদিন প্রায় ২০০-২৫০ লিটার পর্যন্ত দুধ দেয়। গরুর দুধ, হাঁসের ডিম, ফল, সবজি এবং মাছ বিক্রি করে গড়ে প্রতি মাসে সব খরচ বাদ দিয়ে লাখ টাকা আয় হয়। খামারে প্রতিদিন ৬-৭ জন শ্রমিক কাজ করে। তাদের একটা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পেরে ভালো লাগছে। আমার স্বামী পেশায় একজন শিক্ষক। স্কুলের কাজ শেষ করে দিনে এবং রাতে বেশ কিছু সময় খামারে দেন তিনি। আমি মনে করি, নারীরা বাসায় বেকার বসে না থেকে নিজেরা উদ্যোগী হয়ে কিছু করার চেষ্টা করলে নিজের পাশাপাশি বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে।

বিরামপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ আর এম আল মামুন বলেন, বাংলাদেশ সরকার বেকারত্ব দূরীকরণের লক্ষ্যে নারী-পুরুষদের উদ্যোক্তা হতে উৎসাহ জোগাচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় খামারিদের জন্য নানান উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। অনেক খামারি করোনাকালীন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আমি যতটুকু জেনেছি জেসমিন বেগম একজন পরিশ্রমী খামারি। তিনি অনেক দিন ধরে খামারের সঙ্গে রয়েছেন। আমি আশা করছি, তিনি আরও ভালো কিছু করবেন। আমাদের পক্ষ থেকে জেসমিন বেগমের জন্য সার্বিক সহযোগিতা থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন :