জরিনার সংসার চলে আদি জালের মাছ বিক্রি করে

ধর্ম জালে সংসার চলে জরিনার

বনলতা নিউজ ডেস্ক.বনলতা নিউজ ডেস্ক.
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৬:৪৮ PM, ২৭ অক্টোবর ২০২২

মাসুদ পারভেজ রুবেল : রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি. ক্ষণস্থায়ী এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকার জন্য মানুষ হাজারো স্বপ্নের জাল বুনে বাস্তবায়নের জন্য। আর কজনই পারে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে। আর সেই স্বপ্ন বাস্তাবায়নের আগে হঠাৎ মাঝ পথে যদি থেমে যায় সব কিছু। তখন নিরুপায় হয়ে বেঁচে থাকা ছাড়া আর কি থাকে। আজ আর সেই স্বপ্ন বেঁচে নেই, আছে শুধু দুঃখ ভড়াক্রান্ত কষ্ট গাঁথা জীবনটাই। ভেঙ্গে যাওয়া জীবন আর স্বপ্ন নিয়েই বেঁচে আছেন আদি জালে মাছ শিকার করে সংসার চালানো জরিনা খাতুন। বলছিলাম জীবন যুদ্ধে হার না মানা কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার জিগ্নিকান্দী গ্রামের মৃত মজিবরের মেয়ে জরিনা খাতুনের কথা।

২৫ বছর আগে গাইবান্ধার জান্দুর পুর গ্রামের মৃত নায়েব আলীর সাথে পরিবারের সম্মতিতে বিবাহ হয় তার। কিন্তুু ১৭ বছর পূর্বে তার স্বামী মারা যান। সেই স্বপ্ন এখন তার দুঃখে ভড়া জীবন সঙ্গী। জিগ্নিকান্দী গ্রামের এই নারী ৫৫ বছর বয়সে বর্তমানে বন্দবেড় ইউনিয়নের সোনাভরী শাখা নদীতে আদি জালে মাছ শিকার করে বিক্রি করে চালান তাঁর সংসার। মাঝে মধ্যে অনাহারেও থাকতে হয় মাকে নিয়ে। জরিনার নিজের জমি ঘর বাড়ি বলতে বর্তমানে কিছুই নেই।

সর্বক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ থাকলেও মাছ শিকার করে সংসার চালানোর নারীদেন সংখ্যা হাতে গোনা। সাধারণত নারীদের খুব একটা দেখা যায় না এপেশায়। কিন্তু জরিনা ছেলে ওপর নির্ভশীল না হয়ে এ পেশাকেই বেছে নিয়েছে জীবন জীবিকা নির্বাহের জন্য। সাহসী এই পথচলায় তাকেও সহ্য করতে হয়েছে হাসি-ঠাট্টা আর সমাজের বৈরী চোখের রাঙানী। তার পরেও কিছু লোকের সহযোগিতাও পেয়েছেন বিধবা নাম ব্যবহার করে। যদিও তা দিয়ে সাতছন্দে সংসার চলেনি তার। প্রতিনিয়ত তিন বেলা খাবারের কথা চিন্তা করেই সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন মাছ সংগ্রহ করতে। কখনো মাছ না পেলে অন্যনের বাড়ি কাজ করে যা পায় তাই নিয়ে বাড়ি ফিরেন জরিনা বেওয়া। তার একটা মাত্র ছেলে ও মাকে নিয়ে তার সংসার। এই অভাবের সংসারে ছেলে মামুন অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোন করিয়ে আর পারেননি পড়াতে । বর্তমানে অভাবের কারনে বাস গাড়িতে থাকেন ছেলে। সামান্য টাকা যা উপায় হয় তা নিজের প্রয়োজনেই শেষ হয়ে যায়। বর্তমানে দ্রবমূল্যে দাম অনেক বেশি হওয়ায় কোনো মতে চলে তার সংসার।

 

সম্প্রতি দুই প্রতিবেদক বন্ধুসহ ঘুরতে গিয়ে চোখে পড়ে নদীর ধারে ভর দুপুরে এক নারী মাছ শিকার করছেন। ঠিক তখনি বিষয়টি হৃদয়ে দাগ কাটে। কেনো এই নারী ভর দুপুরে মাছ ধরছেন। একটু পরে ওই নারীর কাছে গিয়ে জানা গেলে তার দুঃখ গাঁথা কাহিনীর কথা। বেড়িয়ে আসে বেঁচের থাকার হাজারো স্বপ্ন বোনা জরিনার কথা । জানতে চাইলে মূহুর্তে দু চোখে জল চলে আসে তার। দীর্ঘ সময় শুনছিলাম তার জীবন যুদ্ধে বেঁচের থাকা গল্প। এর বেশ কয়দিন পর তাদের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেলে জরা জিন্ন ভাঙ্গা বাড়িতে থাকেন জরিনা। তা মা ৭০ বছরের জহেরা খাতুন প্রতিবেদকের কাছে বলেন, বাবারে আমার মেয়েটার কপালে বিধাতা দুঃখ লিখেছিলেন। জানি না সুখ কোন দিন আসবে কি না। তবে বাইচা থাকতে মেয়েটার জন্য কিছু একটা করতে পারলে মইরাও শান্তি পাইতাম।

শহর কিংবা গ্রামে অজানা এরকম জরিনার মতো হাজারো কষ্ট নিয়ে বেঁচে আছেন অনেক সংগ্রামী নারী। অনেকে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন। কিন্তুু জরিনার টাকা পয়সা নেই কিন্তু আছে মনের শক্তি। সমাজের অনেক বৃত্তবান মানুষ আছেন যাদের সামান্য সহযোগীতা পেলে হয় তো এই জরিনা হতে পারে স্বাবলম্বী।

সংগ্রামী এই জরিনা জানান, কিশোরী বয়সে তার বিয়ে হয় নায়েব আলীর সাথে। পরিবারের স্ম¥তিতে বিবাহ হয়। বিয়ের দুই বছরের মাথায় পেটে আসেন সন্তান মামুন। স্বামী মারা যাওয়ায় বাড়ি ভিটামাটি না থাকায় তিনি মায়ের বাড়িতে চলে যান। আর সেখানেই শুরু হয় তার বেঁচে থাকার লড়াই। তখন থেকেই মাছ বিক্রিকে পেশা হিসেবে নিয়েছেন তিনি। কষ্ট হলেও এই পেশাকে তিনি সম্মান করেন। জরিনার কথা লোকে কী বললো, তার দিকে না তাকিয়ে কাজ করে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়াটাকেই তিনি সবচেয়ে সম্মান মনে করেন।

আপনার মতামত লিখুন :