ন্যায্যমুল্য না পেয়ে রসুন চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে চলনবিলের কৃষক

বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ রসুন চাষ হয় চলনবিলে

বনলতা নিউজ ডেস্ক.বনলতা নিউজ ডেস্ক.
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৬:২৪ PM, ২৩ নভেম্বর ২০২২

চলনবিল প্রতিবেদক নাটোর. বর্ষার পানি নামতে শুরু করেছে। কাদা জলে চলছে আমন ধান কাটা। ধান কাটা শেষে জমি পরিস্কার করে ঋনের বোঝা কাঁধে নিয়েই কাদা মাটিতে সাদা সোনা খ্যাত মসলা জাতীয় ফসল রসুন লাগাতে শুরু করেছে চলনবিলের কৃষক। এক সপ্তাহের মধ্যেই রোপনকৃত রসুনের চারা বের হবে। গত বছর রসুনের ন্যায্যমুল্য না পেয়ে দিশে হারা চলনবিলের কৃষক। যার কারনে রসুনের আবাদের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে এই এলাকার কৃষকরা।

চলনবিল অঞ্চলের কৃষকদের সাথে কথা বলে যানাগেছে, কৃষি উপকরনের দাম বাড়ায় বিগত বছর গুলোর তুলনায় রসুনে উৎপাদন খরচ অনেক বেশি হচ্ছে। ফলে চলতি মৌসুমে রসুন চাষে প্রতি বিঘায় ৩০থেকে ৪০ হাজার টাকা ব্যায় হচ্ছে। তাছাড়া চলতি বছরে বীজ, সার-কীট নাশক, সেচ, নিড়ানী, শ্রমিকের মূল্য বৃদ্ধির কারনে গত বছরের তুলনায় এবছরে রসুন চাষে প্রতি বিঘায় ৫/৭ হাজার টাকা বেশি খরচ হচ্ছে।

নাটোর কৃষি স¤প্রসারন অধিদপ্তর সূত্রে যানাগেছে, চলতি বছরে চলনবিলে রসুন চাষের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ২২ হাজার ৩শ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে চলনবিলের গুরুদাসপুর, বড়াইগ্রাম, তাড়াশ, চাটমোহর, সিংড়ায় মোট ২২ হাজার ৩শ হেক্টর জমিতে রসুন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এতে প্রতি বিঘায় বীজ বাবদ ১২ হাজার, সার-কীটনাশক বাবদ ১০ হাজার, শ্রমিক খরচ ৮ হাজার, সেচ বাবদ ৬ হাজার টাকা। এছারা ক্ষুদ্র বর্গা চাষিরা প্রতি বিঘা জমি ১০ থেকে১২ হাজার টাকায় বর্গা (লীজ) নিয়ে অধিক খরচে রসুন আবাদ করছেন।

গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবারিষা গ্রামের কৃষক আবুল হোসেন (৫০) জানান,- এবছর ৫ বিঘা জমিতে রসুন চাষ করেছেন তিনি। বিঘা প্রতি বীজ, সার-কীটনাশক ও সেচ বাবদ খরচ হয়েছে ২৪ হাজার টাকা। বপন ও নিড়ানী সহ শ্রমিক খরচ হয়েছে ১২ হাজার টাকা। এতে তার বিঘা প্রতি মোট ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা ব্যায় হয়েছে। অথচ রসুনের দাম না থাকায় লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের।

একই এলাকার পাটপাড়া গ্রামের কৃষক সুকুমার সরকার জানান,- তিনি চলতি বছরে ৬ বিঘা বর্গা (লীজ) নিয়ে রসুন আবাদ করেছেন। কৃষিতে খরচ বাড়ায় গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে প্রতি বিঘায় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা বেশি খরচ হয়েছে। উপায়ান্ত না পেয়ে সমিতি (এনজিও) থেকে লক্ষাধিক টাকা সুদে করে নিয়ে রসুনের আবাদ করেছেন। অনুকুল আবহাওয়া না পেলে অথবা ফসলের ন্যায্য মুল্য না পেলে ঋনের বোঝা সুদের টাকা দিতে পথে বসতে হবে তাকে।

চলনবিলের রসুনচাষী আফজাল হোসেন ও জামাল উদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন জানান, গত প্রায় ২২ বছর ধরে চলনবিল অঞ্চলে “বিনাচাষে রসুন” আবাদ শুরু হলেও রসুনের আশানুরুপ দাম না থাকায় ঋণ কর্জ করে জমি লীজ নিয়ে রসুন রোপণ করছেন তারা। এবছরও দাম না পেলে পথে বসতে হবে তাদের।

নাটোর কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ বলেন,- চলনবিলে এবছর ২২ হাজার ৩শ হেক্টর জমিতে রসুন রোপনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে চলনবিলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম রসুন চাষ করা হচ্ছে। তাছাড়া বাংলাদেশের মধ্যে সর্ববৃহৎ রসুন চাষ হয় চলনবিলের গুরুদাসপুর, বড়াইগ্রাম, তাড়াশ,চাটমোহর ও সিংড়া বিলের কিছুঅংশে। প্রয়োজনীয় কৃষি পরামর্শ এবং সার পৌঁছে দেয়া হচ্ছে কৃষকদের মাঝে।

আপনার মতামত লিখুন :