ভোট দিতে পেরে খুশি তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রানী

বনলতা নিউজ ডেস্ক.বনলতা নিউজ ডেস্ক.
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৫:২০ PM, ২৭ ডিসেম্বর ২০২২

নিয়াজ আহমেদ সিপন, রংপুর থেকে. আজ প্রথমবার নিজ পরিচয়ে (তৃতীয় লিঙ্গ) ভোটার হিসেবে ভোট দিলাম। সত্যিই এটা আমার কাছে গর্বের। মঙ্গলবার (২৭ ডিসেম্বর) রংপুর সিটি করপোরেশনের (রসিক) নির্বাচনে নূরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ভোট দিয়ে এভাবেই আত্মতৃপ্তির কথা জানাচ্ছিলেন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার আনোয়ারা ইসলাম রানী। তিনি বলেন, এর আগে আমি দুইবার জাতীয় ও দুইবার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট দিয়েছি তবে তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার পরিচয়ে ভোট দিইনি।

রংপুর সিটি এলাকায় আরও ৯৫ জন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ রয়েছেন। তবে তারা তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত হতে পারেননি। তারা পুরুষ ও নারী ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত।

 

জানা যায়, রংপুর সিটি করপোরেশনের একমাত্র তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার আনোয়ারা ইসলাম রানীর বাড়ি রংপুর সিটির ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের নূরপুর এলাকায়। রানী রংপুর সিটির নূরপুর এলাকার মৃত চাঁন মিয়া ও জুলেখা বেগমের সন্তান। জিয়াউল ইসলাম নামে তার এক ভাই রয়েছেন। কিন্তু রানী নূরপুর এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন। তার সঙ্গে নুসরাত বেগম, সুবর্ণা রানীসহ বেশ কয়েকজন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ বসবাস করেন। রানী দশম শ্রেণি পযর্ন্ত পড়াশোনা করেছেন। এছাড়া কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তিনি।

আনোয়ারা ইসলাম রানী জানান, ভোটার হয়ে শুধু ভোট দেওয়া নয় তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণের স্বপ্ন দেখেন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে তার। তিনি জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হলে তার স্বগোত্রীয় মানুষজনকে মূলধারায় চালিত করতে সকল ধরনের পদক্ষেপ নেবেন। সেই সঙ্গে মানুষের সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দেবেন।

তিনি আরও জানান, স্কুলজীবন থেকে শুরু করে এখন পযর্ন্ত তাকে সংগ্রাম-লড়াই করতে হচ্ছে। এখনো সমাজের বঞ্চনা নিয়ে বাঁচতে হচ্ছে তাকে। পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীর কাছ থেকে শুধু বঞ্চনাই পাচ্ছেন। সকল বঞ্চনা, বাধা আর তিরস্কারকে উপেক্ষা করে সামনে এগিয়ে যাচ্ছেন রানী। একদিন তার স্বপ্ন পূরণ হবে এমনটাই বিশ্বাস করেন তিনি।

আনোয়ারা ইসলাম রানী বলেন, অতীতে আমাদের অধিকার নিয়ে কেউ ভাবেননি। কেউ আমাদের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার চিন্তাও করেননি। কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের কথা ভেবেছেন এবং আমাদেরকে অধিকার দিয়েছেন। আমরা এখন নিজেকে মানুষ ভাবতে পারছি।

উল্লেখ্য, এবার মেয়র পদে জাতীয় পার্টির মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, আওয়ামী লীগের অ্যাডভোকেট হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ-ইনু) শফিয়ার রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমিরুজ্জামান পিয়াল, খেলাফত মজলিশের তৌহিদুর রহমান মণ্ডল রাজু, জাকের পার্টির খোরশেদ আলম খোকন, বাংলাদেশ কংগ্রেস পার্টির আবু রায়হান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মেহেদী হাসান বনি ও লতিফুর রহমান মিলন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নির্বাচনে মেয়র পদে ৯ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৮৩ জন, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ৬৮ জন সর্বমোট ২৬০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে ৩০নং ওয়ার্ডে একজন সাধারণ কাউন্সিলর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন :