বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ছেলের ওপর অভিমান করে বাবা মায়ের বিষ পান!

নাটোরের গুরুদাসপুরে ছেলের ওপর অভিমান করে পিতা-মাতা’র এক সাথে বিষ পান করার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯টায় উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের হামলাইকোল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্বজন ও স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন। বিষ পানে গুরুত্বর অসুস্থ্য হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন মোঃ আলম শেখ (৬০) ও তার স্ত্রী মোছাঃ নাজমা বেগম (৫০)।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাবা আলম শেখ জানান,‘তার দুই মেয়ে এক ছেলে। একমাত্র সন্তান মোঃ সবুজ শেখ কে তার শেষ সম্বল সকল জমি-জমা লিখে দিয়েছিলেন। ছেলে তাকে কথা দিয়েছিলো সংসারের সকল দায়িত্ব এবং তার সকল ঋণ পরিশোধ করে দিবে। কিন্তু জমি লিখে নেওয়ার পর ছেলে তার কথা রাখেননি। এ দিকে ঋণের কারনে পাওনাদারদের অপমান-অপদস্ত নিরবে সহ্য করতে হতো তাকে। তাছাড়াও ছেলে ও ছেলের বউ তাদের স্বামী-স্ত্রী দুজনের সাথেই খারাপ ব্যবহার করতো। একপর্যায়ে নিজেদের জীবনের ওপর অতিষ্ঠ্য হয়ে তারা স্বামী-স্ত্রী বিষ পান করেছেন।’

ছেলে সবুজ শেখের কাছে বাবা-মায়ের বিষ পানে আত্মহত্যার চেষ্টার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তার চাচাতো ভাই জুয়েল রানা বলেন,‘তার চাচা-চাচি দুজনেই সুস্থ্য হলে পারিবারিক ভাবে বসে এ বিষয়গুলো সমাধান করার চেষ্টা করা হবে।’

গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডাঃ ¯িœগ্ধা আক্তার জানান,‘বিষ পান করে দুইজন স্বামী-স্ত্রী ভর্তি হয়েছেন। দুইজনকেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে অলম শেখের স্ত্রী নাজমা বেগমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’

Tag :
About Author Information

Daily Banalata

Popular Post

ছেলের ওপর অভিমান করে বাবা মায়ের বিষ পান!

Update Time : ১২:২৯:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ মে ২০২৪

নাটোরের গুরুদাসপুরে ছেলের ওপর অভিমান করে পিতা-মাতা’র এক সাথে বিষ পান করার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯টায় উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের হামলাইকোল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্বজন ও স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন। বিষ পানে গুরুত্বর অসুস্থ্য হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন মোঃ আলম শেখ (৬০) ও তার স্ত্রী মোছাঃ নাজমা বেগম (৫০)।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাবা আলম শেখ জানান,‘তার দুই মেয়ে এক ছেলে। একমাত্র সন্তান মোঃ সবুজ শেখ কে তার শেষ সম্বল সকল জমি-জমা লিখে দিয়েছিলেন। ছেলে তাকে কথা দিয়েছিলো সংসারের সকল দায়িত্ব এবং তার সকল ঋণ পরিশোধ করে দিবে। কিন্তু জমি লিখে নেওয়ার পর ছেলে তার কথা রাখেননি। এ দিকে ঋণের কারনে পাওনাদারদের অপমান-অপদস্ত নিরবে সহ্য করতে হতো তাকে। তাছাড়াও ছেলে ও ছেলের বউ তাদের স্বামী-স্ত্রী দুজনের সাথেই খারাপ ব্যবহার করতো। একপর্যায়ে নিজেদের জীবনের ওপর অতিষ্ঠ্য হয়ে তারা স্বামী-স্ত্রী বিষ পান করেছেন।’

ছেলে সবুজ শেখের কাছে বাবা-মায়ের বিষ পানে আত্মহত্যার চেষ্টার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তার চাচাতো ভাই জুয়েল রানা বলেন,‘তার চাচা-চাচি দুজনেই সুস্থ্য হলে পারিবারিক ভাবে বসে এ বিষয়গুলো সমাধান করার চেষ্টা করা হবে।’

গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডাঃ ¯িœগ্ধা আক্তার জানান,‘বিষ পান করে দুইজন স্বামী-স্ত্রী ভর্তি হয়েছেন। দুইজনকেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে অলম শেখের স্ত্রী নাজমা বেগমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’