বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

প্রতিবন্ধী মাহাবুরের পাশে গুরুদাসপুরের ইউএনও

নাটোরের গুরুদাসপুরে প্রতিবন্ধী মাহাবুর রহমানের পাশে দাড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। ‘ভাঙা মেরুদন্ডও ভাঙতে পারেনি তার মনোবল’ এই শিরোনামে গণমাধ্যমে গত ১১ মে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি নজরে আসে গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা আক্তারের। সোমবার বিকেলে প্রতিবন্ধী মাহাবুরের বাড়িতে গিয়ে নগদ ২০ হাজার টাকা ও শুকনো খাবার তার হাতে তুলে দিয়েছেন তিনি। এছাড়াও পরবর্তীতেও মাহাবুরের চিকিৎসা ও আর্থিক সহযোগিতা করা হবে বলে জানান ইউএনও। এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল হান্নান, স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ আরো অনেকে।

গত ৮ বছর পূর্বে অটোভ্যান, রিক্সা, ইজি বাইক,বাইসাইকেল মেরামতের কাজ শিখেছিলেন মাহাবুব। যোগেন্দ্রনগর ত্রিমোহনা মোড়ে তার একটি মেকানিকের দোকানও ছিলো। ভালই চলছিলো কার্যক্রম। তিন বছর পূর্বে ডাব গাছ থেকে পড়ে গিয়ে তার মেরুন্ডের হার ভেঙে যায়। অভাব অনটনের সংসারেও বাবা-মা ঢাকায় দুইটি হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়েছেন প্রায় ৭-৮ মাস। চিকিৎসকরা বলেছেন উন্নত চিকিৎসা করালে স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থের অভাবে উন্নত চিকিৎসা না করে বাড়ি ফিরে আসেন তিনি। পঙ্গু হয়ে বিছানায় ছিলেন কয়েক মাস। এমন সময় স্ত্রীও তাকে রেখে প্রতিবেশি এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে। বেশ কয়েকমাস বিছানায় থাকা এবং উপার্জন না করতে পারায় সংসারে টানাপেরন শুরু হয়। পরবর্তীতে তিনি বাড়ির সামনে একটি মেকানিকের দোকান স্থাপন করেন। দোকানের সামনে বাঁশের তৈরি একটি ম্যাচাং তৈরি করে সেখানে শুয়ে থেকেই ভ্যান, রিক্সা,ইজি বাইক,বাইসাইকেল মেরামত শুরু করেন। প্রায় ২ বছর যাবৎ এভাবেই তিনি মেরামতের কাজ করে নিজের চিকিৎসা বাবদ খরচ ও ছেলের লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছেন। গ্রামের যানবাহন চালকরাও তাকে বেশ সহযোগিতা করেন। তিনি সুস্থ্য স্বাভাবিক থাকা অবস্থায় প্রতিদিন আয় করতেন ১০০০-১২০০ টাকা। আর এখন করেন ৩০০-৪০০ টাকা। তবুও নিজের উপার্জনে সংসার চালাতে পেরে খুশি মাহাবুর। তবে সরকারী কোন সুযোগ সুবিধা পান না বলে জানান তিনি।’

মাহাবুর রহমান জানান,‘সহযোগিতা পেয়ে তিনি অনেক খুশি। তাছাড়াও তার কিছু যন্ত্রাংশ ক্রয় করার জন্য টাকা প্রয়োজন ছিলো। ইউএনও’র দেওয়া সহযোগিতায় সেই যন্ত্রগুলো কিনে আরো ভালভাবে কাজ করতে পারবেন তিনি।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা আক্তার জানান,‘ গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়া সংবাদটি তার নজরে আসে। পরে সমাজসেবা কর্মকর্তার মাধ্যমে তার খোঁজ খবর নেওয়া হয়। সোমবার বিকেলে তাকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগদ ২০ হাাজার টাকা ও শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে তার চিকিৎসার জন্যও সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হবে।’

Tag :
About Author Information

Daily Banalata

Popular Post

প্রতিবন্ধী মাহাবুরের পাশে গুরুদাসপুরের ইউএনও

Update Time : ০৮:২৪:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ মে ২০২৪

নাটোরের গুরুদাসপুরে প্রতিবন্ধী মাহাবুর রহমানের পাশে দাড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। ‘ভাঙা মেরুদন্ডও ভাঙতে পারেনি তার মনোবল’ এই শিরোনামে গণমাধ্যমে গত ১১ মে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি নজরে আসে গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা আক্তারের। সোমবার বিকেলে প্রতিবন্ধী মাহাবুরের বাড়িতে গিয়ে নগদ ২০ হাজার টাকা ও শুকনো খাবার তার হাতে তুলে দিয়েছেন তিনি। এছাড়াও পরবর্তীতেও মাহাবুরের চিকিৎসা ও আর্থিক সহযোগিতা করা হবে বলে জানান ইউএনও। এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল হান্নান, স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ আরো অনেকে।

গত ৮ বছর পূর্বে অটোভ্যান, রিক্সা, ইজি বাইক,বাইসাইকেল মেরামতের কাজ শিখেছিলেন মাহাবুব। যোগেন্দ্রনগর ত্রিমোহনা মোড়ে তার একটি মেকানিকের দোকানও ছিলো। ভালই চলছিলো কার্যক্রম। তিন বছর পূর্বে ডাব গাছ থেকে পড়ে গিয়ে তার মেরুন্ডের হার ভেঙে যায়। অভাব অনটনের সংসারেও বাবা-মা ঢাকায় দুইটি হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়েছেন প্রায় ৭-৮ মাস। চিকিৎসকরা বলেছেন উন্নত চিকিৎসা করালে স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থের অভাবে উন্নত চিকিৎসা না করে বাড়ি ফিরে আসেন তিনি। পঙ্গু হয়ে বিছানায় ছিলেন কয়েক মাস। এমন সময় স্ত্রীও তাকে রেখে প্রতিবেশি এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে। বেশ কয়েকমাস বিছানায় থাকা এবং উপার্জন না করতে পারায় সংসারে টানাপেরন শুরু হয়। পরবর্তীতে তিনি বাড়ির সামনে একটি মেকানিকের দোকান স্থাপন করেন। দোকানের সামনে বাঁশের তৈরি একটি ম্যাচাং তৈরি করে সেখানে শুয়ে থেকেই ভ্যান, রিক্সা,ইজি বাইক,বাইসাইকেল মেরামত শুরু করেন। প্রায় ২ বছর যাবৎ এভাবেই তিনি মেরামতের কাজ করে নিজের চিকিৎসা বাবদ খরচ ও ছেলের লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছেন। গ্রামের যানবাহন চালকরাও তাকে বেশ সহযোগিতা করেন। তিনি সুস্থ্য স্বাভাবিক থাকা অবস্থায় প্রতিদিন আয় করতেন ১০০০-১২০০ টাকা। আর এখন করেন ৩০০-৪০০ টাকা। তবুও নিজের উপার্জনে সংসার চালাতে পেরে খুশি মাহাবুর। তবে সরকারী কোন সুযোগ সুবিধা পান না বলে জানান তিনি।’

মাহাবুর রহমান জানান,‘সহযোগিতা পেয়ে তিনি অনেক খুশি। তাছাড়াও তার কিছু যন্ত্রাংশ ক্রয় করার জন্য টাকা প্রয়োজন ছিলো। ইউএনও’র দেওয়া সহযোগিতায় সেই যন্ত্রগুলো কিনে আরো ভালভাবে কাজ করতে পারবেন তিনি।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা আক্তার জানান,‘ গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়া সংবাদটি তার নজরে আসে। পরে সমাজসেবা কর্মকর্তার মাধ্যমে তার খোঁজ খবর নেওয়া হয়। সোমবার বিকেলে তাকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগদ ২০ হাাজার টাকা ও শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে তার চিকিৎসার জন্যও সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হবে।’