বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ৫ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

গুরুদাসপুরে হিল্লা বিয়ের নামে বউ বেচাকেনা

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:২৫:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২০
  • ১৫৩ Time View

নাটোরের গুরুদাসপুরে সখিনা (৩০) নামের এক গৃহবধুর মাথার চুল কেটে দিয়েছে তার হিল্লায় বিয়ে করা দ্বিতীয় স্বামীর প্রথম স্ত্রীসহ স্বজনরা। এ ব্যাপারে বাদী হয়ে গৃহবধুর বাবা সিদ্দিকু রহমান বুধবার (৬ মে) সন্ধ্যা ৭টায় গুরুদাসপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। শুক্রবার (৮ মে) নাটোর বিজ্ঞ আদালত জিজ্ঞাসাবাদের পর সখিনাকে ছেড়ে দিয়ে তার দ্বিতীয় স্বামী ফরিদ মুন্সীকে জেল হাজতে প্রেরণ করে।

মামলার নথিসুত্রে জানা যায়,- স্বামী ফরিদ মুন্সী (৪৫) সখিনার দ্বিতীয় স্বামী। উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের সাবগাড়ী গ্রামে দ্বিতীয় স্বামী ফরিদ মুন্সীর বাড়িতে সখিনার চুল কেটে দেওয়া হয়। গৃহবধু সখিনা জুমাইনগর গ্রামের সিদ্দিকুর রহমানের মেয়ে। ২০০৪ সালে উপজেলার দূর্গাপুর গ্রামের আব্দুল মজিদের সঙ্গে তার প্রথম বিয়ে হয়। এরপর দীর্ঘদিন ঘরসংসার করাকালীন পার্শ্ববর্তী গ্রাম সাবগাড়ীর ফরিদ মুন্সী সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। দীর্ঘদিন প্রেমের পরে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে দম্পতি ফরিদ-সখিনা। কিছুদিন পর তারা এলাকায় আসলে দ্বিতীয় বউকে ঘরে তোলেন ফরিদ। তখন থেকেই সখিনার উপর শুরু হয় ফরিদের প্রথমর স্ত্রীর অমানবিক নির্যাতন। মামলার কয়েকদিন আগে সখিনার মাথার চুল কেটে দেয় প্রথম স্ত্রী হাজেরা বেগম ও তার স্বজনরা। সব নির্যাতন মুখবুজে সহ্য করেন গৃহবধু সখিনা।

সখিনার প্রথম স্বামী আব্দুল মজিদের দাবি, আমি রাগের বশে মৌখিকভাবে স্ত্রী সখিনাকে তালাক করি। ইসলামী শরিয়াহ মোতবেক তালাক করা স্ত্রী’র সঙ্গে মেলামেশা অবৈধ হওয়ার কারণে স্ত্রী সখিনার সাথে ফরিদের হিল্লা বিয়ে দেই। পরে আমার বউকে ফেরত চাইলে ফরিদ মুন্সী দিতে অস্বীকার করে। কারণ আমার কাছে ২ লাখ টাকা পাবে বলে ওই টাকার বদলে তিনি আমার বউ নিয়েছেন। টাকা না দিলে সখিনাকে আমার কাছে ফেরত দিবে না।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ভুক্তভুগির বাড়িতে গিয়ে কথা হয় সখিনার সাথে। তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, ২০২০ সালের জানুয়ারিতে নাজিরপুর ইউনিয়নের কুমারখালি গ্রামে এক বাড়িতে ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক ফরিদের সঙ্গে আমার বিয়ে হয়। এরপর ফরিদের বাসা উঠলে তার প্রথম স্ত্রী ও স্বজনরা মিলে আমার মাথার চুল কেটে দেয়। ঘরের মধ্যে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন করে। পরে বিষয়টি কানাঘুষা হলে সখিনার বাবা শুনতে পেরে থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশের মাধ্যমে তার মেয়েকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে আনা হয়।

বিয়াঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক জানান, তিনি বিষয়টি শুনেছেন। এ ব্যাপারে তার কাছে কেউ কোন অভিযোগ করে নি। তবে থানায় মামলা হওয়ার কথা তিনি লোকমুখে শুনেছেন।

এ ব্যাপারে মামলা আয়ু গুরুদাসপুর থানার এ্স আই মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ভুক্তোভুগি সখিনা বেগমের বাবা বাদী হয়ে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে আসামি ফরিদ মুন্সী, রতন, বাবলু, হাজেরা বেগম ছালমা (রেভা), এমদাদুলসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে ওই মামালা দায়ের করেছেন। এর মধ্যে মামলা প্রধান আসামি ফরিদ মুন্সীকে গ্রেপ্তার করে নাটোর জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

আসামি ফরিদের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন,- দীর্ঘদিন ধরে আমার সঙ্গে সখিনার প্রেমের সম্পর্ক। আমরা এক অপরকে ভালোবাসি। আমাদের মাঝে ভালোবাসার কোনো কমতি নেই। নিয়ম অনুসারে সখিনার তার প্রথম স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে আমরা বিয়ে করি। আমাকে অযথা ধরে আনা হয়েছে। সখিনার বাবা মিথ্যে দোষারোপ করে পুলিশ দিয়ে ধরে এনেছে। এ ব্যাপারে তিনি নির্দোষ বলেও দাবী করেন।

গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাহারুল ইসলাম বলেন,- আমরা মেয়ের বাবার কাছ থেকে একটি অভিযোগ পেয়েছি। মেয়ের মুখ থেকে শুনে বিষয়টি তদন্ত করে ৬ জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।

Tag :
About Author Information

Daily Banalata

গুরুদাসপুরে হিল্লা বিয়ের নামে বউ বেচাকেনা

Update Time : ১২:২৫:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২০

নাটোরের গুরুদাসপুরে সখিনা (৩০) নামের এক গৃহবধুর মাথার চুল কেটে দিয়েছে তার হিল্লায় বিয়ে করা দ্বিতীয় স্বামীর প্রথম স্ত্রীসহ স্বজনরা। এ ব্যাপারে বাদী হয়ে গৃহবধুর বাবা সিদ্দিকু রহমান বুধবার (৬ মে) সন্ধ্যা ৭টায় গুরুদাসপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। শুক্রবার (৮ মে) নাটোর বিজ্ঞ আদালত জিজ্ঞাসাবাদের পর সখিনাকে ছেড়ে দিয়ে তার দ্বিতীয় স্বামী ফরিদ মুন্সীকে জেল হাজতে প্রেরণ করে।

মামলার নথিসুত্রে জানা যায়,- স্বামী ফরিদ মুন্সী (৪৫) সখিনার দ্বিতীয় স্বামী। উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের সাবগাড়ী গ্রামে দ্বিতীয় স্বামী ফরিদ মুন্সীর বাড়িতে সখিনার চুল কেটে দেওয়া হয়। গৃহবধু সখিনা জুমাইনগর গ্রামের সিদ্দিকুর রহমানের মেয়ে। ২০০৪ সালে উপজেলার দূর্গাপুর গ্রামের আব্দুল মজিদের সঙ্গে তার প্রথম বিয়ে হয়। এরপর দীর্ঘদিন ঘরসংসার করাকালীন পার্শ্ববর্তী গ্রাম সাবগাড়ীর ফরিদ মুন্সী সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। দীর্ঘদিন প্রেমের পরে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে দম্পতি ফরিদ-সখিনা। কিছুদিন পর তারা এলাকায় আসলে দ্বিতীয় বউকে ঘরে তোলেন ফরিদ। তখন থেকেই সখিনার উপর শুরু হয় ফরিদের প্রথমর স্ত্রীর অমানবিক নির্যাতন। মামলার কয়েকদিন আগে সখিনার মাথার চুল কেটে দেয় প্রথম স্ত্রী হাজেরা বেগম ও তার স্বজনরা। সব নির্যাতন মুখবুজে সহ্য করেন গৃহবধু সখিনা।

সখিনার প্রথম স্বামী আব্দুল মজিদের দাবি, আমি রাগের বশে মৌখিকভাবে স্ত্রী সখিনাকে তালাক করি। ইসলামী শরিয়াহ মোতবেক তালাক করা স্ত্রী’র সঙ্গে মেলামেশা অবৈধ হওয়ার কারণে স্ত্রী সখিনার সাথে ফরিদের হিল্লা বিয়ে দেই। পরে আমার বউকে ফেরত চাইলে ফরিদ মুন্সী দিতে অস্বীকার করে। কারণ আমার কাছে ২ লাখ টাকা পাবে বলে ওই টাকার বদলে তিনি আমার বউ নিয়েছেন। টাকা না দিলে সখিনাকে আমার কাছে ফেরত দিবে না।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ভুক্তভুগির বাড়িতে গিয়ে কথা হয় সখিনার সাথে। তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, ২০২০ সালের জানুয়ারিতে নাজিরপুর ইউনিয়নের কুমারখালি গ্রামে এক বাড়িতে ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক ফরিদের সঙ্গে আমার বিয়ে হয়। এরপর ফরিদের বাসা উঠলে তার প্রথম স্ত্রী ও স্বজনরা মিলে আমার মাথার চুল কেটে দেয়। ঘরের মধ্যে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন করে। পরে বিষয়টি কানাঘুষা হলে সখিনার বাবা শুনতে পেরে থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশের মাধ্যমে তার মেয়েকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে আনা হয়।

বিয়াঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক জানান, তিনি বিষয়টি শুনেছেন। এ ব্যাপারে তার কাছে কেউ কোন অভিযোগ করে নি। তবে থানায় মামলা হওয়ার কথা তিনি লোকমুখে শুনেছেন।

এ ব্যাপারে মামলা আয়ু গুরুদাসপুর থানার এ্স আই মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ভুক্তোভুগি সখিনা বেগমের বাবা বাদী হয়ে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে আসামি ফরিদ মুন্সী, রতন, বাবলু, হাজেরা বেগম ছালমা (রেভা), এমদাদুলসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে ওই মামালা দায়ের করেছেন। এর মধ্যে মামলা প্রধান আসামি ফরিদ মুন্সীকে গ্রেপ্তার করে নাটোর জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

আসামি ফরিদের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন,- দীর্ঘদিন ধরে আমার সঙ্গে সখিনার প্রেমের সম্পর্ক। আমরা এক অপরকে ভালোবাসি। আমাদের মাঝে ভালোবাসার কোনো কমতি নেই। নিয়ম অনুসারে সখিনার তার প্রথম স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে আমরা বিয়ে করি। আমাকে অযথা ধরে আনা হয়েছে। সখিনার বাবা মিথ্যে দোষারোপ করে পুলিশ দিয়ে ধরে এনেছে। এ ব্যাপারে তিনি নির্দোষ বলেও দাবী করেন।

গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাহারুল ইসলাম বলেন,- আমরা মেয়ের বাবার কাছ থেকে একটি অভিযোগ পেয়েছি। মেয়ের মুখ থেকে শুনে বিষয়টি তদন্ত করে ৬ জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।