বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ৫ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

গোদাগাড়ীতে হারভেস্ট মেশিন দিয়ে ধান কাটার উদ্বোধন

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৪১:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২০
  • ১০৩ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে উপজেলায় প্রথম বারের মতো বিভিন্ন ইউনিয়নের শতভাগ ফসল উত্তোলনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কৃষি বিভাগের উদ্যোগে কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ইরি-বোরো ধান কাটা, মাড়াই ও বস্তাবন্দি কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার সকালে গোদাগাড়ী উপজেলার রাজশাহী চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়ক সংলগ্ন বিজয়নগর মাঠে ধান কাটা ও মাড়াই কাজের উদ্বোধন করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাজশাহীর অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ সুধেন্দ্র নাথ রায় । উল্লেখ্য, সমকালীন চাষাবাদ” পদ্ধতিতে বিজয়নগরের এই মাঠে ৬০ শতক জমির ধান দেখতে একই রকম হবে । এই জমিতে অন্য কোন জাতের মিশ্রণ। ধান গুলো একই রকমের লম্বা। একই সাথে, একই দিনের চারা, একই গভীরতায় রাইস ট্রান্সপ্লান্টার (চারা রোপণের যন্ত্র) দিয়ে লাইন করে আধুনিক উচ্চ ফলনশীল ব্রি ধান-৮১এর চাষ করা হয়েছিল বিজয়নগরের এই ব্লকে। এই জমির ধানকাটার মাধ্যমে ধানকাটা উৎসব উদ্বোধন করা হয়।
এসময় কৃষি স মস্প্রারণ অধিদ্পতের রাজশাহী অহ্ছলের অতিরিক্ত পরিচালক শুধেন্দ্র নাথ রায়, রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শামছুল হক, গোদাগাড়ীর উপজেলা কৃষি অফিসার শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত কৃষি অফিসার কৃষিবিদ লুৎফুন নাহার, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মতিয়র রহমান, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউটের সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হারুন উর রশীদ আরও উপস্থিত ছিলেন।
এসময় রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামছুল হক কৃষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, বর্তমান সরকার কৃষি বান্ধব সরকার। কৃষকদের কথা চিন্তা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রান্তিক কৃষকদের বিনা মূল্য সার ও বীজ বিতরণ করেছেন । এর ফলে কৃষি শ্রমিক দিয়ে বিঘা ৮-৯ হাজার টাকা প্রতি খরচ হয়েছে। আর এই কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন দিয়ে প্রতি ঘন্টায় এক একর জমির ধান কাটা, মাড়াই ও বস্তাবন্দি করায় কৃষকের সময় ও অতিরিক্ত অর্থ কম ব্যয় হচ্ছে। এতে সময় ও খরচ দুটোয় কম লাগবে। সরকারিভাবে আবার কৃষকদের কাছ থেকে অধিকমূল্যে ধান ক্রয়ের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাজশাহীর অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ সুধেন্দ্র নাথ রায় জানান,করোনা ভাইরাস এর কারণে কৃষকরা সারা দেশে শ্রমিক সংকট কাটাতে, প্রতিকূল আবহাওয়া থেকে পরিত্রাণের জন্য স্বল্প সময়ে কষ্টের ফসল ঘরে তুলতে এবং উৎপাদন খরচ কমাতে সরকারি উন্নয়ন সহায়তার মাধ্যমে সরবরাহকৃত হারভেস্টার দিয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের মাধ্যমে জমির ধান কাটার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, এবারের করোনাভাইরাস মোকাবেলার জন্য কৃষকদের কথা চিন্তা করে সরকার ভূর্তকি দিয়ে ধান কাটার যান্ত্রিক মেশিন কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। সরকার ধান কাটার যান্ত্রিক মেশিন কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিয়ে প্রমাণ করেছে এই সরকার দেশের কৃষকদের কথা ভাবেন। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্য অনুসারে, এ বছর গোদাগাড়ী উপজেলায় ১৩ হাজার ৪শত ৮৫ হেক্টর জমিতে বোর ধানের চাষাবাদ হয়েছে।

Tag :

গোদাগাড়ীতে হারভেস্ট মেশিন দিয়ে ধান কাটার উদ্বোধন

Update Time : ১২:৪১:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে উপজেলায় প্রথম বারের মতো বিভিন্ন ইউনিয়নের শতভাগ ফসল উত্তোলনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কৃষি বিভাগের উদ্যোগে কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ইরি-বোরো ধান কাটা, মাড়াই ও বস্তাবন্দি কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার সকালে গোদাগাড়ী উপজেলার রাজশাহী চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়ক সংলগ্ন বিজয়নগর মাঠে ধান কাটা ও মাড়াই কাজের উদ্বোধন করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাজশাহীর অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ সুধেন্দ্র নাথ রায় । উল্লেখ্য, সমকালীন চাষাবাদ” পদ্ধতিতে বিজয়নগরের এই মাঠে ৬০ শতক জমির ধান দেখতে একই রকম হবে । এই জমিতে অন্য কোন জাতের মিশ্রণ। ধান গুলো একই রকমের লম্বা। একই সাথে, একই দিনের চারা, একই গভীরতায় রাইস ট্রান্সপ্লান্টার (চারা রোপণের যন্ত্র) দিয়ে লাইন করে আধুনিক উচ্চ ফলনশীল ব্রি ধান-৮১এর চাষ করা হয়েছিল বিজয়নগরের এই ব্লকে। এই জমির ধানকাটার মাধ্যমে ধানকাটা উৎসব উদ্বোধন করা হয়।
এসময় কৃষি স মস্প্রারণ অধিদ্পতের রাজশাহী অহ্ছলের অতিরিক্ত পরিচালক শুধেন্দ্র নাথ রায়, রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শামছুল হক, গোদাগাড়ীর উপজেলা কৃষি অফিসার শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত কৃষি অফিসার কৃষিবিদ লুৎফুন নাহার, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মতিয়র রহমান, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউটের সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হারুন উর রশীদ আরও উপস্থিত ছিলেন।
এসময় রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামছুল হক কৃষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, বর্তমান সরকার কৃষি বান্ধব সরকার। কৃষকদের কথা চিন্তা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রান্তিক কৃষকদের বিনা মূল্য সার ও বীজ বিতরণ করেছেন । এর ফলে কৃষি শ্রমিক দিয়ে বিঘা ৮-৯ হাজার টাকা প্রতি খরচ হয়েছে। আর এই কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন দিয়ে প্রতি ঘন্টায় এক একর জমির ধান কাটা, মাড়াই ও বস্তাবন্দি করায় কৃষকের সময় ও অতিরিক্ত অর্থ কম ব্যয় হচ্ছে। এতে সময় ও খরচ দুটোয় কম লাগবে। সরকারিভাবে আবার কৃষকদের কাছ থেকে অধিকমূল্যে ধান ক্রয়ের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাজশাহীর অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ সুধেন্দ্র নাথ রায় জানান,করোনা ভাইরাস এর কারণে কৃষকরা সারা দেশে শ্রমিক সংকট কাটাতে, প্রতিকূল আবহাওয়া থেকে পরিত্রাণের জন্য স্বল্প সময়ে কষ্টের ফসল ঘরে তুলতে এবং উৎপাদন খরচ কমাতে সরকারি উন্নয়ন সহায়তার মাধ্যমে সরবরাহকৃত হারভেস্টার দিয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের মাধ্যমে জমির ধান কাটার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, এবারের করোনাভাইরাস মোকাবেলার জন্য কৃষকদের কথা চিন্তা করে সরকার ভূর্তকি দিয়ে ধান কাটার যান্ত্রিক মেশিন কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। সরকার ধান কাটার যান্ত্রিক মেশিন কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিয়ে প্রমাণ করেছে এই সরকার দেশের কৃষকদের কথা ভাবেন। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্য অনুসারে, এ বছর গোদাগাড়ী উপজেলায় ১৩ হাজার ৪শত ৮৫ হেক্টর জমিতে বোর ধানের চাষাবাদ হয়েছে।