1. md.magem1974@gmail.com : Md Magem : Md Magem
  2. mustakimbd160@gmail.com : Mustakim Jony : Mustakim Jony
শৈশবের যত খুনসুটি » দৈনিক বনলতা
বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২০, ১১:৩৪ পূর্বাহ্ন

শৈশবের যত খুনসুটি

প্রতিবেদকের নাম
  • প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২০

লেখক – প্রিয়ন্তি রুম্পা.
শৈশবে প্রত্যেকটা মানুষেরই থাকে নানা স্মৃতি। ছোট বেলায় আমি সবার চেয়ে একটু বেশী দুষ্ট প্রকৃতির ছিলাম। তাই হাজারো স্মৃতি মাঝে একটি নিয়ে আজকের লেখা।
আমি যখন ক্লাস থ্রি তে পড়ি তখন আমার ছোট বোনের বয়স চার বছর। অনেক ছোট । দেখতে খুব সুন্দরী ছিলো মাথার চুল স্পাইক করার মতো। সবাই পুতুল বলে ডাকতো । আমার আব্বা,আম্মা সরকারি চাকুরিজীবি হবার সুবাধে আমাদের বাসায় রেখে যেতো (স্কুলের টিচার)। বড় আপু,দাদি,আমি আর কাজের মেয়ে বাসায় থাকতাম। আমি খুব দুষ্ট প্রকৃতির ছিলাম ছোট বেলা থেকেই । আমি কোথায়ও গেলে পিচ্চি আমার সাথে সাথে যাইতো, না নিয়ে গেলে কান্নাকাটি করত, পরে আমি আবার মাইর খাইতাম। যাই হোক,মুল গল্পে আসি এবার একদিন দুপুর বেলা ৩ টা বাজে,আপু, দাদি, আমাদের দু বোনকে নিয়ে বিছানায় শুয়ে ঘুম পাড়াচ্ছে । আমি উঠে যাচ্ছি,আপু বলে উঠল এই যাও কোথায় ঘুমাও, না হলে এক থাপ্পরে ঘুম পাড়াবো। আমি বললাম বাথরুমে যাবো। বলল ঠিক আছে যাও। তখন আমার সাথে সাথে আমার ছোট বোন পিচ্ছি বলে আমিও বাথরুমে যাবো। আপু বলে ওকে নিয়ে যা দেখিস পরে না যেনো। আমি তো পরিকল্পনা করেছি মিথ্যা বলে বাইরে খেলতে যাবো। এই পিচ্ছির জন্য আর হবে না বোধহয়, ওহ শিট! পিচ্চিকে বাইরে নিয়ে যাবো আজ মাইর আছে কপালে জানি, তবু খেলতে যাই। পিচ্চিকে কোলে নিয়ে দরজা খুলে দেখি আমাদের দরজার অপর পাশে একটা বড়ই গাছ ছিল সেটা অবশ্য পাশের বাড়ির গাছ। আহ কিছু পোলাপান বড়ই পাড়তেছে,আমিও ঢিল দিলাম, আর এক পিচ্চি বড়ই কুড়াচ্ছিলো । হঠাত আমার একটা ঢিল পিচ্চির মাথায় লেগে মাথা ফেটে যায়,পিচ্চি কান্না শুরু করে দিল। মাথা দিয়ে অনেক ব্লাড বের হচ্ছে জামা ভিজে গেছে । আমি কি করবো বুঝতে পারছিলাম না। পাশে আমাদের পুকুরপাড়, সেখানে নিয়ে মাথায় পানি ঢালতে শুরু করে দেই । পিচ্চি কান্না করেই চলছে। এদিকে আপু আর দাদি বের হয়েছে খুজতে। এতো সময় নেয় কেন নিশচই কোন কান্ডু করে বসেছে। ঘটনা সেটাই ,সবাই বাইরে এসে দেখে আমি পিচ্চিটাকে পুকুড়ে নামিয়েছি, আর পিচ্চিটা কান্না করছে । আপু কাছে আসার আগেই আমি ভোদৌর। আপু পিচ্চিটাকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে গিয়ে মাথায় ৪ টা সেলাই দিয়ে নিয়ে আসে । ইতি মধ্যেই বাসায় লংকাকান্ড অবস্থা। আমি পালাইছি আমার দাদা বাড়ি। আর বাসায় যাবো না গেলে একশত চুয়াল্লিশ ধারায় মাইর তো খাবো আমি শিওর। বাসায় না গিয়ে লুকিয়ে ছিলাম দাদা বাড়ির নারিকেল গাছের পাশে নতুন রুমের সানসাইড এর উপর । আমার আব্বা, চাচাতো ভাইরা সবাই খুজছে আমাকে আর সবাই চিন্তা করছে। কোথায় গেলো মেয়েটা? আমার বড় আম্মা বলছে ভয়ে বাচ্চাটা লুকাইছে। আমার আব্বা বলছে আমি তো মারবো না ওকে, এক্সিডেন্ট হয়ে গেছে আর কি করা, মারলে কি সব ঠিক হবে । আমি সব শুনতে পাচ্ছি কিন্তু ভয়ে নামছি না। এ খবর শুনে আমার মা অজ্ঞান হয়ে গেছে চাচাতো ভাই বলতে বলতে বাসায় আসছে। বড় আপুও নাকি খুব কান্না করছে। বাসার সবাই আমাকে নিয়ে দুঃচিন্তায়। আব্বু আমাকে বার বার ডাকছে। এমন সময় আমি নেমে যাই আব্বার কাছে আব্বা আমায় কোলে নিয়ে বলে মা কোথায় গেছিলা, আমরা কতো খুজতেছি।আমি বলি বাসায় গেলে মা আর আপু মারবে তাই লুকিয়ে ছিলাম। পিচ্চিটার মাথা কি ভাল হইছে আব্বু? আব্বু বলল বাসায় চলো মা। অনেক খাবার নিয়ে আসছি আমি তোমার জন্য। অবশেষে আমি বাসায় ফিরলাম মা আমায় দেখে মহা খুসি।, আমার কাছে দৌড়ে আসছে, আমি ভাবছি মারবে তাই দেরি না করে দ্রুত খাটের নিচে ঢুকে যাই। মা, দাদি,আপু,পাড়া প্রতিবেশি সবাই বলছে আরে বাবা মারবে না তো। তোমার মা তো অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলো। পরে আমি বের হয়ে আসি মা আমাকে অনেক আদোর করে। আপুও কোলে নিয়ে বলে আর এমন করোনা আমরা সবাই ভয় পেয়েছিলাম,আব্বা অনেক খাবার এনে আমার হাতে দিয়ে বলল খাও মা, ভয় নেই। পিচ্চিটা মাথায় বেন্ডেস, আমার কোলে বসে বলছে আমাকে পুকুড়ের পানি খাওয়াইয়ে পালায় গেছো কেন, আমি যে অনেক কান্না করছিলাম,অনেক রক্ত বের হইছে মাথা দিয়ে আপুনি। আমি চুপ করে আছি আর কান্না করছি। পিচ্চিটা বলে কাদিওনা আমি ভাল হয়ে যাবো তো। জীবনে ওইদিন সবচেয়ে বেশি ভয় পেয়েছিলাম। একটা বড় শিক্ষা হয়ে গেছে। আর মা বলছে আর কখনো বাইরে যাবি না খেলতে। এর পর আমার আব্বু অনেক খেলনা এনে দিয়েছিলো দু বোনকে সাইকেল,বেটমিল্টন,বল,পুতুল,রিকশা,হাড়িপাতিল আরও অনেক কিছু। তাই মনে হয় প্রিয় শৈশব কষ্টের আবার আনন্দের ও।

সংবাদটি শেয়ার করুন

One thought on "শৈশবের যত খুনসুটি"

  1. Noutushi says:

    হৃদয়ে ছুঁইয়ে গেলো লেখা টা , এমন গল্প আরো দেখতে চাই । আমরা পাশে আছি প্রিয়ন্তী আপু , আন্তরিক ধন্যবাদ ।।।।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর

এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।

Theme Customized BY Freelancer Jony