গ্রামীণ সংগ্রামী নারীরা এখনো নির্যাতিত-অধিকার বঞ্চিত!

Md MagemMd Magem
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০১:৩০ PM, ১৪ মার্চ ২০২১

প্রভাষক মো.মাজেম আলী মলিন

শহরের শিক্ষিত মেয়েরা যেমন বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপর্ুুণ পদে মেধা শ্রম মেধা দিয়ে সাহসিকতার সাথে কাজ করছেন।ঠিক সে ভাবেই গ্রামীণ নারীরাও সর্ব শক্তি দিয়ে পুুরুষের সাথে কাঁেধ কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছেন- রাত দিন বাসা-বাড়ীতে,মাঠে- ঘাটে ও কৃষি জমিসহ সর্বত্র। অথচ এখনো অধিকার বঞ্চিত গ্রামীণ নারীরা।
শহরের নারীরা কিছুটা আত¦ মর্যাদা ও সম্মান পেলেও গ্রামীণ নারীরা আজো অবহেলিত এবং নির্যাতিত। শহরে কিছু কিছু ক্ষেত্রে নারীরা তার প্রাপ্য মর্যাদা বুঝে নিলেও পারছেনা গ্রামীণ নারীরা। তারা বাসা-বাড়ীতে কঠোর পরিশ্রম করেন সে কাজের কোন স¦ীকৃতি তো মেলেই না পান না কোন মজুরীও। উল্টো সহ্য করতে হয় নানা অসম্মান আর নির্যাতন।
চলনবিলের খুবজীপুর ইউনিয়নের পিপলা গ্রামের নারী শ্রমিক মিনা, সেফালী মরিয়ম জানান- তারা তো শুধু শ্রমই বিক্রি করলেন নায্য মজুরী পেলেন না। পুরুষের সাথে সমান তালে কাজ করেও নানা ধরণের বৈষম্যের শিকার হতে হচ্ছে তাদের। তারা অধিকার বঞ্চিত হয়ে কাজ করে গেলেও তাদের কষ্ট দেখার কেউ নাই। তাদের দাবী কোন কোন কাজে তারা পুরুষ শ্রমিকের চাইতেও বেশী কাজ করে থাকেন । অথচ মজুরী বৈষম্যে এবং নির্যাতনে শিকার এখনো।
গুরুদাসপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন জানান, নারীরা কৃষির অগ্রদূত, যে নারীরা আমাদের কৃষি সমাজ এবং সংসারকে মহিমান্বিত করেছে জীবনের সবটুকু বিনিয়োগ করেছেন তাদের কষ্টগাঁথা ইতিহাস আসলে এখনো অমানবিক। এ দেশে এখনো ৮৫ শতাংশ নারীরা উপার্জনে স্বাধীনতা পান না। মাত্র ১৫ শতাংশ নারীরা নিজের ইচ্ছায় উপার্জনের স্বাধীনতা পান। আর যারা আয় করেন তাদের প্রায় ২৪ শতাংশই নিজের আয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেই। তবে গ্রামের তুলনায় শহুরে নারীদের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা কিছুটা বেশি।
গুরুদাসপুর বিলচলন শহীদ সামসুজ্জোহা সরকারী কলেজে প্রভাষক কৃষিবিদ মো. জহুরুল হক সরকার বলেন, গ্রামীণ নারী শ্রমিকদের ইতিহাস এক অবিচ্ছেদ্য আলোক বিহীন রাতের গল্প। কৃষিতে এবং বাসাবাড়ীতে নারীর ভূমিকা এবং অবদান বর্ননাতীত। অথচ গ্রাামীণ নারীরা ন্যায্য মজুরি এবং সম্মান কোনটিই পায়না। উপযুক্ত সমাধানের অভীষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এগুতে পারলে আমরা সব কিছু নিয়ে আরো বিশাল অর্জনের দিকে এগিয়ে যেতে পারব। যদিও কর্মক্ষেত্রে অনেক সময় নারী শ্রমিকরা শারিরীক ও মানসিক নির্যাতনে শিকার হন পুরুষদের কাছে, তবুও আাশার কথা হলো সেদিন আর বেশী দুরে নেই সেই কাংখিত লক্ষ্যে পৌঁছতে সক্ষম হবেন গ্রামীণ নারীরা।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি স্থানীয় সাংসদ অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, প্রধানমন্ত্রীসহ দেশের গুরুত্বপুর্ণ পদে নারীরা সততা,সাহসিকতা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তবে অল্পসংখ্যক স্বামীই বা সমাজ নারীকে উপার্জনের স্বাধীনতা দেন এই পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব পরিবর্তন করতে হবে। আমাদের নারীরা বাড়তি সেবা দেওয়ার জন্য ব্যস্ত থাকেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা, দিনের পর দিন। আমাদের মানসিকতা বদলাতে হবে; পুষ্টিতে তুষ্টিতে যুক্তিতে নারীর পাওনা অধিকারকে সমানভাবে প্রাপ্যতা অনুযায়ী সুনিশ্চিত করতে হবে। নারীদেরকে শিক্ষা প্রশিক্ষণ দিয়ে আরো দক্ষ করে তুলতে হবে।নারী বলে কোনো রকম বৈষম্য অবহেলা করা চলবে না। নারী আইনগত অধিকার, বিনিয়োগী অধিকার, অবদানের স্বীকৃতি যথাযথভাবে দিতে হবে। তাহলেই গ্রামীণ নারীরা আর অবহেলিত থাকবেনা।
গুরুদাসপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তমাল হোসেন বলেন,আমরা সবাই যদি সচেতন হই তাহলে অনেক দুর এগিয়ে যেতে পারব এতে কোনো সন্দেহ নেই।শুধু আইন নীতিমালা প্রনয়ন ও বাস্তবায়নই নয় প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতারও। আমাদের জাতীয় কবির সাথে একমত হয়ে বলি সেদিন সুদূর নয়-যেদিন পুরুষের সাথে গাহিবে নারীরও বিজয়ের গান।
গুরুদাসপুর উপজেলা চত্বরে ৮মার্চ সোমবার সকাল ৯টায় বিশ্ব নারী দিবসে বক্তারা এসব কথা বলেন।ইউএনও তমাল হোসেনের সভাপতিত্বে অন্যন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-উপজেলা চেয়ারম্যান অনোয়ার হোসেন,ভাইস চেয়ারম্যান আলাল শেখ,মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রোকসানা আকতারসহ নানা শ্রেণি পেশোর নারী পুরুষ।

আপনার মতামত লিখুন :