চট্রগ্রামের হাটহাজারীতে সংঘর্ষে নিহত- ৪ বিজিবি মোতায়েন

Md MagemMd Magem
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৩:৫৭ PM, ২৭ মার্চ ২০২১

বিশেষ প্রতিবেদক.
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে পুলিশের সঙ্গে মাদ্রাসাছাত্রদের সংঘর্ষে চারজন নিহত হওয়ার ঘটনার পর হাটহাজারীসহ আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। হেফাজতে ইসলামের কর্মীরা দেয়াল তুলে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করায় বন্ধ রয়েছে ব্যস্ততম চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কে যানবাহন চলাচল। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে র‍্যার ও পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। হাটহাজারী থানার সামনে রাখা হয়েছে বিজিবির সাঁজোয়া যান।

এদিকে হাটহাজারীতে পুলিশের সঙ্গে মাদ্রাসাছাত্রদের সংঘর্ষ ও চারজন নিহত হওয়ার ঘটনায় শনিবার দুপুর ১টা পর্যন্ত এখনও মামলা হয়নি।
এভাবেই সড়কে দেয়াল তুলে অবরোধ দেওয়া হয়।

অন্যদিকে হাটহাজারীতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে চারজন নিহত হওয়ার ঘটনায় হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলামের অপসারণ ও চার নেতাকর্মীকে হত্যার বিচার দাবি করেছে হেফাজত। অবিলম্বে তাকে অপসারণ না করা হলে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।

শনিবার (২৭ মার্চ) সারাদেশে বিক্ষোভ এবং রবিবার (২৮ মার্চ) সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। এক বিবৃতিতে হেফাজত ইসলামের আমির জুনায়েদ বাবুনগরী ‘তৌহিদি জনতা’র বিক্ষোভে হামলায় হতাহতের ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে হতাহতের প্রতিবাদে হেফাজতে ইসলামের ডাকা বিক্ষোভ ও হরতাল কর্মসূচি সফল করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। তিনি এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের ‘দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি’ দাবি করে নিহত ‘তৌহিদি জনতার প্রতি ফোঁটা রক্তের বদলা নেওয়া হবে’ বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
‘তৌহিদি জনতা’র ওপর আবারও হামলা করা হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে জুনায়েদ বাবুনগরী আরও বলেন, মোদি ইস্যুতে যদি আর একজন তৌহিদি জনতার রক্ত ঝরে বা ওলামায়ে কেরামকে হামলা মামলা ও হয়রানি করা হয়, তাহলে এর প্রতিবাদে পুরো দেশে আন্দোলনের দাবানল জ্বলে উঠবে। প্রয়োজনে শীর্ষ ওলামায়ে কেরামের সঙ্গে পরামর্শ করে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে।

শুক্রবার সংঘর্ষের পর রাতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের মধ্যস্ততায় হেফাজত নেতা এবং পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মধ্যে বৈঠক হলেও বিরাজমান সমস্যার সমাধান হয়নি। আজ শনিবার সকাল ৯টা থেকে হাটহাজারী থানায় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন ও জেলা পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা থানায় অবস্থান করছেন।
যোগাযোগ করা হলে ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম জানান, গতকাল রাতে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। তারা ৫টি দাবি দিয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে নিহত চারজনের ময়নাতদন্ত সঠিকভাবে করতে হবে। তাদের দাফন কাফনে যেন কোন অসুবিধা না হয়, এ ঘটনায় যারা আহত হয়েছেন তাদের সু চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং গুলি করার ঘটনায় দায়ী পুলিশের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সংঘর্ষের পর থেকে হাটহাজারী বাজারের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ। থানা ভবনের দক্ষিণে বাস স্টান্ডে রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে সেখানে অবস্থান করছে বিপুল সংখ্যক র‍্যাব ও পুলিশ। থানা এবং আশপাশে অবস্থান নিয়েছে বিজিবি, র‍্যাব ও পুলিশ। হাটহাজারী মাদ্রাসার দক্ষিণে বাজারের মুখে চট্টগ্রাম-নাজিরহাট সড়কে বাঁশ ও টিনের ব্যারিকেড দিয়ে মাদ্রাসার ছাত্ররা অবস্থান করছে। কিছুক্ষণ পরপর মাদ্রাসার ছাত্ররা ‘গো ব্যাক মোদি, গো ব্যাক মোদি’ বলে স্লোগান দিচ্ছে। সড়কে ব্যারিকেড দেয়ায় চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার এস এম রাশিদুল হক বলেন, ‘আমরা একটি বৈঠকে আছি। শুক্রবার সকাল থেকে আমিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত। আমরা গতকালের সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে কাজ করছি।’
এর আগে ঢাকার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ধর্মভিত্তিক কয়েকটি দলের নেতাকর্মী ও মুসল্লিদের একাংশের সঙ্গে পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনার প্রতিবাদে হাটহাজারীর মাদ্রাসার ছাত্ররা ও হেফাজতের ইসলামের কর্মীরা শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিক্ষোভ মিছিল বের করলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। দুপুর আড়াইটা থেকে বন্ধ হয়ে যায় চট্টগ্রাম-হাটহাজারী-নাজিরহাট সড়কে যান চলাচল। ঘটনার সময় হেফাজতের কর্মীরা হাটহাজারী থানা, ভূমি অফিস, ডাকবাংলোতে হামলা করে। ভূমি অফিসের ফাইলপত্র ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। এরপর পুলিশ গুলি ছোড়ে। এভাবে দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় আধা ঘণ্টা সংঘর্ষ চলে। ঘটনার সময় সহকারী পুলিশ সুপারসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে মাদ্রাসার ছাত্র ও হেফাজতের কর্মীরা আটক করে মারধর করে। পুলিশের সঙ্গে হেফাজতের কর্মীদের সংঘর্ষে চারজন নিহত ও অর্ধশতাধিক আহত হয়।

আপনার মতামত লিখুন :