মাওলানা মামুনুল হকের সঙ্গে থাকা সেই নারীর পরিচয় মিলেছে

Md MagemMd Magem
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৮:৪৮ AM, ০৪ এপ্রিল ২০২১

বনলতা ডেস্ক.

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের একটি রিসোর্টে হেফাজত ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকের সঙ্গে থাকা সেই নারীর পরিচয় মিলেছে।

সেই নারীর নাম জান্নাত আরা ঝর্ণা (২৭)। তিনি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের কামারগ্রামের বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. ওলিয়ার রহমান ওরফে ওলি মিয়ার মেজো মেয়ে। ওলিয়ার রহমান গোপালপুর ইউনিয়নের কামারগ্রাম ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি।

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও রয়েল রিসোর্টে স্থানীয় জনতার কাছে মামুনুল হক ওই নারীর নাম আমেনা তৈয়াবা বললেও প্রকৃতপক্ষে তার নাম জান্নাত আরা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রচারের পর দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হাওয়ার পাশাপাশি জেলার বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা উপজেলায় ঝর্ণা এখন টক অব দ্য টাউন। জান্নাতের আগে বিয়ে হয়েছে এবং দুটি সন্তান আছে। একথা সবাই জানলেও দ্বিতীয় বিয়ের কোনও খবরই জানেন না এলাকাবাসী।

এদিকে সংবাদ পেয়ে সরেজমিনে রবিবার সকালে ঝর্ণার গ্রামের বাড়িতে গিয়ে তার পিতা ওলিয়ার রহমান ও মাতা শিরীনা বেগমের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের মেয়ে জান্নাত আরা ঝর্ণার নয় বছর বয়সে বিয়ে হয়েছিল হাফেজ শহীদুল ইসলাম ওরফে শহীদুল্লাহ নামে এক ব্যক্তির সাথে। তার বাড়ি বাগেরহাটের কচুড়িয়া এলাকায়। শহীদুল্লাহ্ ও ঝর্ণা দম্পতির আব্দুর রহমান (১৭) ও তামীম (১২) নামে দুই পুত্র সন্তান রয়েছে।

তারা জানান, পারিবারিক কলহের জেরে আড়াই বছর আগে শহীদুল্লাহ্ ও ঝর্ণার ডিভোর্স হয়ে যায়। তারপরে দুবছর আগে পরিবার থেকে পাত্র দেখে মেয়েকে বিয়ে দেয়ার উদ্যোগ নিলে সে আবার বিয়ে করেছে বলে জানায়। তবে কাকে সে বিয়ে করেছে সে বিষয়ে পরিবারকে জানায়নি কখনো।

প্রথম স্বামী হাফেজ শহীদুল ইসলাম ওরফে শহীদুল্লাহর সাথে জান্নাত আরা ঝর্ণার পরিবারের কোনো যোগাযোগ আছে কি-না জানতে চাইলে তারা জানান, ডিভোর্সের পরে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ রাখেনি তারা।

এ ব্যাপারে হাফেজ শহীদুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগের কোনো মাধ্যম না পাওয়ায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

গোপালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মোনায়েম খান বলেন, ঝর্ণার পিতা ওলিয়ার রহমান একজন সহজ সরল মানুষ। কামারগ্রাম চার নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি। তার মেয়ের আগে বিয়ে হয়েছে। তার দুই ছেলেও আছে, পরে বিয়ে হয়েছে কিনা জানি না। এলাকার কেউ জানে বলেও মনে হয় না।

উল্লেখ্য, শনিবার বিকেল ৩টায় নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের রয়্যাল রিসোর্টের পঞ্চম তলার ৫০১ নম্বর কক্ষে তাদেরকে অবরুদ্ধ করে স্থানীয় জনতা। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।

আপনার মতামত লিখুন :