করোনায় ফসল নিয়ে সিন্ডিকেটের কবলে চলনবিলের কৃষক

Md MagemMd Magem
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১১:৪৯ AM, ২১ এপ্রিল ২০২১

প্রভাষক মো.মাজেম আলী মলিন.
একই জমিতে বিভিন্ন প্রকার কৃষিপণ্য উৎপাদনের কারণে উত্তরাঞ্চলের শষ্য ভান্ডার খ্যাত চলনবিল অঞ্চলের চাষাবাদ বরাবরই বৈচিত্রময়। চলনবিল অঞ্চলের বৈচিত্রময় কৃষি কাজে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বিনাচাষে রসুন,পাশাপাশি রবি শষ্যর মধ্যে সরিষা, গম, রাই,ভুট্টা,মশুর, তিষি, কালাইসহ নানা প্রকার ফসল উৎপাদনের জন্য প্রসিদ্ধ চলনবিলাঞ্চল।

উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে জানা যায়, হাট বাজারগুলো করোনায় লোকে পরিপুর্ণ থাকা সত্বেও দাম নিয়ে চলছে কৃষকের সাথে প্রতারণা।
চলনবিল অঞ্চলের পলিযুক্ত দোআঁশ মাটিতে এসব রবিশষ্য ও মসলা জাতীয় কৃষিপন্নের কাঙ্খিত ফলন পেয়েছেন এই এলাকার কৃষকরা। অন্যান্য ফসল আবাদের চেয়ে রবিশষ্যে বেশি লাভ হওয়ায় এই অঞ্চলের কৃষকরা রবি শষ্যের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে উঠছেন। ফলনও পেয়েছেন ভাল। তাই আশায় স্বপ্ন দেখছেন ভাল দাম পাবার। কিন্তু বৈষ্যয়িক সমস্যা করোনার কথা বলে ফসলের দাম নেই বলে গুজব ছড়াচ্ছেন কিছু স্বার্থনেশী ফরিয়া ও মহাজনরা। ফলে উৎপাদিত ফসল নিয়ে বিপাকে পরেছেন এই এলাকার কৃষক ।
নাটোর কৃষি অধিদপ্তর ও এলাকার কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চলতি বছরে চলনবিলের ৯ উপজেলায় মোট ৬২ হাজার ৩শ’ ৯৫ হেক্টর জমিতে রবি শষ্যের আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ৪ হাজার ৪শ’ ১০ হেক্টর, রায়গঞ্জে ২ হাজার ৯শ’ ৯৫ হেক্টর, উল্লাপাড়ায় ১৯ হাজার ৭শ’ হেক্টর, শাহজাদপুরে ১৪ হাজার ৬শ’ ২৫ হেক্টর, এছাড়া পাবনার চাটমোহরে ৫ হাজার ৬শ’ হেক্টর, ভাঙ্গুগুড়ায় ৫ হাজার ৬শ’ ১৫ হেক্টর, নাটোর গুরুদাসপুরে ১ হাজার ৫শ’ হেক্টর, সিংড়ায় ১ হাজার ৪শ’ ৫০ হেক্টর, আত্রাই উপজেলায় ২ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমিতে রবিশষ্যের আবাদ হয়েছে। নাটোরের কৃষি অধিদপ্তর সুত্রে জানাযায় এ বছর চলনবিলের ৯ উপজেলায় মোট ৬২ হাজার ৩শ’ ৯৫ হেক্টর জমিতে রবিশষ্যের আবাদ করা হয়েছে।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে জানা যায়, হাট বাজারগুলো করোনার সত্বেও লোকে পরিপুর্ণ থাকা সত্বেও দাম নিয়ে চলছে কৃষকের সাথে প্রতারণা। কৃষককে পণ্য নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেলেও দেখা মিলছেনা ক্রেতা, ফরিয়া ও মহাজন চক্রদের। তারা সুকৌশলে কৃষকদের গদিঘরে ডেকে নিয়ে ঢাকায় মালের দাম নেই তাই তারা মাল ক্রয় করতে পারছেন না। বেশ কয়েকজন কৃষক এই অভিযোগগুলো জানান। যেখানে কিছুদিন আগেও রসুনের দাম ছিল ২ থেকে ৩ হাজার টাকা মন। সেই রসুনের বাজার মুল্য এখন ১ থেকে দের হাজার টাকা। এমন মূল্য রাই,শরিষা,গম,মশুরসহ সকল রবিশষ্যেরই। তাই এ অঞ্চলের কৃষকদের মনে এখন এক অজানা শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সম্প্রতি বাণিজ্য নগরী চাঁচকৈড় হাটসহ কয়েকটি হাটে গিয়ে কথা হয় বেশ কয়েকজন কৃষকের সাথে তারা জানান, প্রতি বিঘা জমিতে রবি শষ্যে ২৫ থেকে ৩০ বীজ,সার,কীটনাশক,সেচ,শ্রমিকসহ খরচ হয়েছে। এখন করোনা আর ব্যবসায়ীদের প্রেষণে পরে লোকশান গুনতে হচ্ছে তাদের।

উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামের কৃষক আ.খালেক জানান, ‘৫ বিঘা জমি লীজ নিয়েছি ৭৫ হাজার টাকায় আনুসঙ্গিক খরচসহ ৫ বিঘা জমিতে সর্ব মোট লীজসহ ব্যায় হয়েছে তিন লক্ষাধিক টাকা অথচ যে ফসল পেয়েছি তা বর্তমান বাজার দরে বিক্রি করলে আসল টাকাই উঠবেনা। তাই দাদন ব্যবসায়ীদের চাপ থাকা সত্বেও হাটে বসে না থেকে আবাদী ফসল নিয়ে বাড়ী ফিরে যাচ্ছি’।

এ ব্যাপারে গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.তমাল হোসেন জানান, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও করোনা ভাইরাস সংক্রমণরোধে সতর্কতামূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত মোতাবেক গুরুদাসপুর উপজেলার বিভিন্ন সাপ্তাহিক হাট বাজার তদারকি চলছে। করোনাভাইরাস যেহেতু ছোঁয়াচে, তাই জনসমাগম বন্ধ করার জন্য এই ব্যবস্থা। আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়ার জন্য সকলকে আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট দুরত্ব বজায় রেখে স্বল্প সময়ের মধ্যে জরুরী প্রয়োজনীয় ক্রয় বিক্রয় শেরে নিতে পারবেন। তিনি আরো বলেন- প্রতিদিন বাজার মনিটরিং অব্যাহত রয়েছে। অসৎ ব্যাবসীদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নিতে মাঠে সক্রিয় রয়েছে প্রশাসন।

আপনার মতামত লিখুন :