চলনবিলে কৃষি শ্রমিকের পাশে নাটোরের জেলা প্রশাসক

Md MagemMd Magem
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৭:২৩ AM, ২৩ এপ্রিল ২০২১

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি.
চলনবিলের দিগন্তজোড়া ফসলের মাঠজুড়ে দোল খাচ্ছে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন। ধানের আশাতিত ফলন না হলেও কৃষকের আনন্দের কমতি নেই। তবে এই ধান কেটে ঘরে তোলা নিয়ে ছিল শঙ্কা। সেই শঙ্কা দূর করে ভালো ভাবে ধান কাঁটতে কৃষক-শ্রমিকের পাশে দাঁড়িয়েছে নাটোর জেলা ও গুরুদাসপুর উপজেলা প্রশাসন।

প্রশাসনের সহযোগীতায় কৃষকের ধানকাঁটতে দুরদুরান্ত থেকে এসছে শ্রমিক। শুধু যে শ্রমিকদের জন্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে তা নয়। কৃষকের ধান গোলায় তুলতে জেলাপ্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তমাল হোসেন শ্রমিকদের সহায়তায় নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন।

 উপজেলা  কৃষি অফিসার মোঃ    হারুনর রশিদ জানান- চলতি মওসুমে গুরুদাসপুরের বিলগুলোতে ৪হাজার ৬শ হেক্টর জমিতে ধান চাষ করা হয়েছিল। নির্বি ধান কেটে ঘরে তুলতে পারলে গুরুদাসপুর উপজেলা এলাকার কৃষকদের খাদ্যে কোন সমস্যা থাকবে না।
নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ তমাল হোসেন বলেন- স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর এসব শ্রমিকদের ধানকাটার জন্য মনোনীত করা হয়েছে।শ্রমিকের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে শ্রমিকদের জরুরী চিকিৎসা,অস্থায়ী আবাসন সুবিধাসহ শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

রুহাই গ্রামের কৃষক জাহিদুল ইসলাম ও আকিবুল ইসলাম বলেন-মাঠের পাকা ধান কাটার জন্য পর্যাপ্ত শ্রমিক রয়েছে। সংকট ছিল শ্রমিকের আবাসন। উপজেলা প্রশাসন কৃষি-কৃষক বান্ধব পদক্ষেপ নেওয়ায় তারা মাঠের ধান ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কা মুক্ত হয়েছেন।

নাটোর জেলা প্রশাসক মোঃ শাহরিয়াজ পিএএ বলেন- চলনবিলের কেন্দ্রস্থল গুরুদাসপুর উপজেলার বিলশা, রুহাই পিঁপলা খুবজীপুর,শ্রীপুরসহ বেশ কয়েকটি নিচু এলাকা রয়েছে। এসব এলাকার বিলগুলোতে বেশি ধান চাষ করা হয়েছে। সময় মতো ধান কাটতে না পারলে বা বৃষ্টিপাত-আগাম বন্যা দেখা দিলে এসব বিলের ধান নিয়ে বিপাকে পড়তে হবে কৃষকদের। তাই বিলের এই নিচু এলাকার ধান দ্রুত কাটতে স্থানীয়সহ বহিরাগত হাজারো শ্রমিক কাজ করছে।এসব শ্রমিকের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে শ্রমিকদের জরুরী চিকিৎসা,অস্থায়ী আবাসন সুবিধাসহ শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

এদিকে শ্রমিকদের উদ্বুদ্ধ করতে গতকাল শুক্র বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বিলশা এলাকায় গিয়ে ধানকাটা শ্রমিকদের উদ্দ্যেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন নাটোর জেলা প্রশাসক মোঃ শাহরিয়াজ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ তমাল হোসেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) মোঃ আবু রাসেল প্রমুখ্য। বক্তব্য শেষে ৪শ প্যাকেট শুকনো খাবার ও ৬শ প্যাকেট বিস্কটি বিতরণ করা হয়। প্যাকেটে ছিল পানির বোতল ,সাবান, মাস্ক লেবু চিড়া,খাবার স্যালাইন ও বিস্কুটসহ বিভিন্ন প্রকারের শুকনো খাবার। প্রশাসনের এই কার্যক্রম চলমান থাকবে বলে তাঁরা জানান।

আপনার মতামত লিখুন :