জনতার নজর কাড়লো ১২৫ কেজি ওজনের ২ বছরের তোতাপুরি ছাগল

মোঃ মাজেম আলীমোঃ মাজেম আলী
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০১:৩৭ PM, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২২

প্রভাষক মোঃ মাজেম আলী মলিন.

প্রদর্শনীর স্টলগুলোতে গরু, ছাগল, ভেড়াসহ নানা জাতের কবুতর থাকলেও সবার দৃষ্টি ছিল ১২৫ কেজি ওজনের ২ বছরের একটি ছাগলের পাঠার দিকে। শ্বেত লালচে ডোরাকাটা বর্ণের এই ছাগলের পাঠাটি যেন প্রদর্শনীর মূল আকর্ষণ। সদ্য সমাপ্ত প্রদর্শনী দেখতে আসা পৌরশহরের খামার নাচকৈড় মহল্লার বাসিন্দা খুবজীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আনিসুর রহমান বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, এতো বড় ছাগলের পাঠা এর আগে আমি কখনো দেখিনি। ছাগলটি দূর থেকে দেখতে সবার কাছে হরিণের মতো বলেই মনে হচ্ছে।

উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের রাসেল নামের এক যুবক বলেন, ১২৫ কেজি ওজনের ছাগলের কথা শুনে দেখার জন্য সকাল থেকেই এখানে এসে অপেক্ষা করছি। দর্শনার্থীর ভীড় ঠেলে স্টলের সামনে যেতেই দেখা যায় একজন পরম যতেœ ছাগলের পাঠাটিকে ভুসি খাওয়াচ্ছেন। তার নাম আনোয়ার হোসেন। বাড়ি উপজেলার চাপিলা ইউনিয়নের খামার পাথুরীয়া গ্রামে। গ্রামে তার একটি খামার আছে। সেখানে তিনি উন্নত জাতের বিভিন্ন প্রজাতির সাড়ে ৩শতাধিক ছাগল পালন করছেন। যার মধ্যে ৪৮টি পুরুষ ছাগল অবশিষ্টগুলো ছাগী রয়েছে।

তার খামারে তোতাপুরী,গাড়ল,হরিয়ানা,শিরঞ্জী,যমুনাপারি,হ্ঞ্জাা,গুজুরী,বিটল,বারোয়ারীসহ প্রায় ২০ প্রজাতির ছাগল রয়েছে। তিনি ১৯৯৫ সাল থেকে ২৬ বছর যাবৎ ছাত্র জীবন থেকেই চাকুরীর চিন্তা বাদ দিয়ে এই খামার শুরু করেন। বর্তমানে তিনি গুরুদাসপুরের একজন সফল কৃষক উদোক্তা । আনোয়ার রাজশাহী কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স মাষ্টার্স করেছেন।

বছর দুই আগে তার নিজ খামারেই এই তোতাপুরির জন্ম হয়। উন্নত জাতের এই ছাগলটি তিনি প্রদর্শনির জন্য নিয়ে এসছিলেন সদ্য সমাপ্ত হওয়া গুরুদাসপুর প্রাণি প্রর্দশনিতে। সেখানেই কথা হয় এই সফল উদ্যোক্তা আনোয়ারের সাথে। তিনি জানান, লালন-পালন করার পর দুই বছর বয়সী এই ছাগলের ওজন এখন প্রায় ১২৫ কেজি। আনোয়ার হোসেনের সাফল্যের গল্প এখানেই শেষ নয়। প্রজনন করে তার খামারে এখন এই জাতের ১০টি ভেড়া। তোতা পুরী জাতের ছাগলের রোগবালাই নেই বললেই চলে। সারাদিন মাঠে চড়িয়ে । রাতে সকল ছাগলকে কৃষি অফিসের পরামর্শে ঘাস, গম, ভুসি ও প্রয়োজনীয় খাবার দেওয়া হয়।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোঃ আলমগীর হোসেন বলেন, তোতাপরি ছাগল একটি উন্নতজাত। গবেষকরা ধারণা করছেন, বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল সীমান্ত এলাকা ও ভারতের রাজস্থান অঞ্চলে এর আদি নিবাস। এই জাতটি অন্যান্য জাতের ছাগল থেকে কিছুটা আলাদা। এই জাতের ছাগলের গড়ন দ্রæত বাড়ে। মাংস উৎপাদন হয় অনেক বেশি। এই কারণে অন্যান্য জাতের চেয়ে এই জাতের ছাগল পালন করে খামারিরা অনেক বেশি লাভবান হয়।

এদিকে সদ্য সমাপ্ত ওই প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন স্থানীয় সাংসদ নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক মোঃ আব্দুল কুদ্দুস। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আনোয়ার হোসেন, কৃষি কর্মকর্তা হারুনর রশিদ, সমাজসেবা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ওয়াহেদ্জ্জুামান, প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষ।

আপনার মতামত লিখুন :