পাখির স্বর্গ রাজ্য চলনবিল !

মোঃ মাজেম আলীমোঃ মাজেম আলী
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৫:১২ PM, ০৩ মার্চ ২০২২

প্রভাষক মোঃ মাজেম আলী মলিন.

বিকেলের আলো নিভে যায়নি তখনো, তবে ঘনিয়ে আসছে সন্ধ্যা। সূর্যটা যেন তার রক্তিম আভা ছড়িয়ে বিদায় নিতে যাচ্ছে। ঘড়ির কাঁটায় তখন বিকেল সাড়ে ৪টা। চলনবিলের বিলশা এলাকায় অবস্থিত “মা জননী সেতু”এলাকায় পা রাখতেই চোখে পড়লো গাছগুলোর ওপর হাজারো পাখির গুঞ্জন । ক্যামরায় ভিউ ফাইন্ডারে তাকিয়ে লেন্সে জুম করে দেখা গেলো সাদা বর্র্ণের ঝাঁক ঝাঁক বক পাখি। এ যেন সবুজ গাছের মাঝে সদ্য ফোটা কাশফুলের মিতালী । কিছু দূর এগুতেই দেখা মিললো ধানের জমিতে খাবারের সন্ধান করছে বক পাখির সারি সারি দল।

চলনবিল জুড়ে শোভা পাচ্ছে রোপণ করা বোরো ধান। সেই ধানখেত আর ছোট বড় অসংখ্য ডোবার জলে আহারে মগ্ন ছোট বড় অসংখ্য বক পাখির দল। নীল আকাশে উড়ে বেড়াচ্ছে মহান্দে সাদা বক পাখির সারি সারি আঁকা বাঁকা দলগুলো। এযেন সাত রঙের র্ধংনুকেও ও হার মানিয়েছে। ক্যামরা অন করলেই দেখা যাচ্ছে চোখ জুড়ানো অপরুপ সৌন্দর্য। চলনবিলে গীষ্মের সকাল থেকে বিকেল অতিথি পাখিদের কিচিরমিচির শব্দে চার পাশ মুখরিত। উড়ে বেড়ানো পাখিরা যেন জলকেলি খেলায় মত্ত।এক নজর দেখলেই ছুঁয়ে যায় মন।

চলনবিলের ছোট বড় গ্রামগুলোতে এখন দেখা মিলছে এমন মনকারা দৃশ্যের। দেখে মনে হবে এযেন পাখিদের মিলন মেলা । সেই সাথে যোগ হয়েছে চলনবিলের চারিদিকে সবুজ ধান আর ছোট বড় গ্রামগুলোর অফুরন্ত রূপের সমারোহ । শীতের বিদায়ে বসন্ত ঋতুর আগমনেই এমন অপরুপ সাজে সেজেছে চলনবিল। তবে প্রতিটি ঋতুতেই চলনবিলের এই দৃশ্যের পরিবর্তন দেখা যায়। একেক ঋতুতে একেক রুপ ধারণ করে যা কাছ থেকে না দেখলে বিশ্বাসী করার উপায় নেই। তাই গরমে যান্ত্রিক জীবন থেকে একটু প্রশান্তির খোঁজে ঘুরে যেতে পারেন এশিয়ার সর্ব বৃহৎ খরস্রোতা এই চলনবিলে।

আপনার মতামত লিখুন :