আওয়ামী লীগ মানেই উন্নয়ন, মানুষের মুখে হাসিঃ এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন

মোঃ মাজেম আলীমোঃ মাজেম আলী
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৭:৪৩ PM, ০৫ মার্চ ২০২২

বিশেষ প্রতিবেদক রাজশাহী.

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন বলেছেন, আওয়ামী লীগ মানেই উন্নয়ন, আওয়ামী লীগ মানেই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন, আওয়ামী লীগ মানেই মানুষের পকেটে বাড়তি অর্থ, আওয়ামী লীগ মানেই ছেলে-মেয়েকে নিয়ে ভালো খাওয়া, ভালো কাপড় পরা, আওয়ামী লীগ মানেই দেশের মানুষের মুখে হাসি, আওয়ামী লীগ মানেই বছরের ১ম দিন শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই, আওয়ামী লীগ মানেই চিকিৎসাকেন্দ্রে বিনামূল্যে চিকিৎসা পাওয়া, আওয়ামী লীগ মানেই কিছু পাওয়া।

শনিবার বিকেলে নওহাটা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে পবা উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন-২০২২ এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের সর্বক্ষেত্রে উন্নয়ন আজ দৃশ্যমান। দৃশ্যমান হয়েছে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র, এলএনজি টার্মিনাল, কয়লাভিত্তিক রামপাল থার্মাল বিদ্যুৎকেন্দ্র, পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর ইত্যাদি। আওয়ামী লীগ সরকারের গত ১৩ বছরে দেশের চিত্রই পাল্টে গেছে। বাংলাদেশকে দেখে আপসোস করছে পাকিস্তান ।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা দূরদর্শী নেত্রী। তিনি তৃণমূল পর্যায়ে আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করতে নির্দেশ প্রদান করেছেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা দলকে সুসংগঠিত করতে কাজ করে যাচ্ছি। উপ-মহাদেশের অন্যতম প্রাচীন দল আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের কৃর্তি ও গৌরব উজ্জ্বল অর্জন জনসাধারণের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে।

সিটি মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন আরো বলেন, ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন, তা শুধু দেশে নয়, সারাবিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে জাতীয় চার নেতা মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করে দেশকে স্বাধীন করেছেন। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পরও তারা আপোস করেননি, নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে গেছেন।

সম্মেলনে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও রাসিক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, সামনে একটা ঝাকুনি দেওয়ার চেষ্টা করবে বিএনপি-জামাত। আমাদের সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে। বিএনপি-জামাত ২০১৪ সালের মতো আগুন সন্ত্রাস করে মানুষকে যাতে পুড়িয়ে মারতে না পারে, সে ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে। তাদেরকে আর আগুন সন্ত্রাস করতে দেওয়া যাবে না। যখন প্রয়োজন হবে দলীয় নেতাদের নির্দেশে রাজপথ দখল নিতে হবে, বিএনপি-জামায়াতকে ঘরে ঢুকিয়ে দিতে হবে। ইউপি নির্বাচনের মতো বিএনপি নির্বাচনে না আসলেও অন্য প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে জয়যুক্ত চেষ্টা করবে। তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন বলেন, বাংলাদেশে শেখ হাসিনার বিকল্প শুধুই শেখ হাসিনা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, আগামীতেও এগিয়ে যাবে।

তিনি আরো বলেন, দলকে সুসংগঠিত করতে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। আগামী নির্বাচন প্রতিহতের নামে বিএনপি-জামাত যদি আবারো ২০১৪ সালের মতো আগুন সন্ত্রাস করে, পেট্রোল বোমা ও গান পাউডার দিয়ে মানুষকে পুড়িয়ে মারতে চায়, তাহলে তাদেরকে শক্তভাবে প্রতিহত করতে হবে। আন্দোলন করেন আপত্তি নাই, কিন্তু আন্দোলনের নামে মানুষকে পুড়িয়ে মারতে দেওয়া হবে না।

সম্মেলনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, কেন্দ্রীয় সদস্য ও বিএমডিএ এর চেয়ারম্যান বেগম আখতার জাহান, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামাল, সাধারণ সম্পাদক মোঃ ডাবলু সরকার, রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ আয়েন উদ্দিন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আদিবা আঞ্জুম মিতা বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন। সম্মেলনের উদ্বোধক ছিলেন রাজশাহী জেলা আওয়ালী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও বাগমারা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অনিল কুমার সরকার। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি আব্দুল ওয়াদুদ দারা। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন পবা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইয়াসিন আলী। সঞ্চালনা করেন পবা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাজদার রহমান সরকার।

এরআগে জাতীয় সঙ্গীতের সাথে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে পবা উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন শুরু হয়। সম্মেলনের শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা সহ মহান মুক্তিযুদ্ধে সকল শহীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এদিকে দুপুর থেকে খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে সম্মেলনস্থল নওহাটা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে আসতে থাকেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এরপর হাজার হাজার নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে সম্মেলনের ১ম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

আপনার মতামত লিখুন :