শেষ হলো স্বেচ্ছা সেবী সংগঠন কল্লোল ফাউন্ডেশনের বির্তক উৎসব

মোঃ মাজেম আলীমোঃ মাজেম আলী
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৭:০৯ PM, ০১ এপ্রিল ২০২২

প্রভাষক মোঃ মাজেম আলী মলিন.

“যুক্তির শাণিত ধারে ছিন্ন হোক আঁধার” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নাটোরের স্বেচ্ছা সেবী সংগঠন (জয় বাংলা ইয়ুথ এ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত) প্রতিষ্ঠান কল্লোল ফাউন্ডেশানের উদ্বোগে মাস ব্যাপি চলা বির্তক উৎসবের শেষ হয়েছে গতকাল ৩১ মার্চ বৃহস্পতিবার রাত ৯টায়।

মহান স্বাধিনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে গত ২ ফেব্রয়ারী থেকে শুরু হয় বির্তক উৎসবসহ চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার। ৩১ মার্চ বৃহস্পতিবার বিকেলে নাটোরের গুরুদাসপুর সরকারী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ওই বিতর্ক উৎসবে ফাইনাল রাউন্ড ও সাংস্কৃতিক সন্ধার মধ্য দিয়ে শেষ হয় অনুষ্ঠানটি। কল্লোল ফাউন্ডেশানের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মিল্টন উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফাউন্ডেশানের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি বংলাদেশ যুব মহিলা লীগের সহ সভাপতি এ্যাডভোকেট কোহেলী কুদ্দুস মুক্তি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব  অধ্যাপক মোঃ আব্দুল কুদ্দুস। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাটোরের জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ, পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা,বিলচলন শহীদ সামসুজ্জোহা সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. একরামুল হক।

সম্মানিত অতিথি ছিলেন গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ তমাল হোসেন, গুরুদাসপুর থানার ওসি মোঃ আব্দুল মতিন,দাতা সদস্য আসিফ আব্দুল্লাহ বিন কুদ্দুস শোভন অহবায়ক বির্তক প্রতিযোগিতা উপকমিটি, কল্লোল ডিবেট সোসাইটির সভাপতি আবু তাহের ও সাধারণ সম্পাদক শারমিন, রাজনৈতিক ব্যাক্তিবর্গ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও ফাউন্ডেশানের সদস্য বৃন্দসহ হাজারো সংগীত পিপাঁসু এবং শিক্ষানুরাগী ব্যাক্তি।

বক্তারা বলেন,দেশের প্রতিটি উপজেলায় এধরনের অনুষ্ঠান হলে ট্যালেন্ট হান্টের মাধ্যমে জাতি উপকৃত হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননশীলতার বিকাশ ঘটবে। বক্তারা আরো বলেন কল্লোল ফাউন্ডেশানের সামাজিক সেবা সমুহ অত্যান্ত সময় উপযোগী যা দেশের উন্নয়ণ অগ্রযাত্রায়  গুরুত্বপুর্ণ ভুমকা পালন করবে। এধরনের স্বেচ্ছা সেবী প্রতিষ্ঠান দেশ ও মানবতার কল্যাণ বয়ে নিয়ে আসে। সুতরাং দেশ ব্যাপি স্বেচ্ছা সেবী সংগঠনের উৎকৃষ্ট উদাহরণ এই কল্লোল ফাউন্ডেশান।

 

আয়োজক কমিটি সুত্রে জানাযায়, গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম দুই উপজেলা ব্যপি বির্তক ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা শুরু হয় ২ ফেব্রয়ারী থেকে। চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় প্রায় দুই উপজেলার ৩ শতাধিক শিশু কিশোর শিক্ষার্থী চারটি দলে বিভক্ত হয়ে অংশ গ্রহন করে। প্রতিটি দল থেকে ১ম,২য় ও ৩য় সহ মোট ১২ জনকে ক্রেষ্ট, সনদ ও বিভিন্ন লেখকদের বই উপহার দেওয়া হয়েছে।

গুরুদাসপুর সরকারী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ট শ্রেণির ছাত্র মেরাজুল ইসলাম জিসান দৈনিক বনলতাকে বলেন, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় হয়ে যে আনন্দ পেয়েছি তার চেয়ে বেশি আনন্দ পেয়েছি এমপি মহাদয়, নাটোরের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের নিকট থেকে উপহারটি গ্রহন করার সৌভাগ্য পেয়ে। এজন্য কল্লোল ফাউন্ডেশানের প্রতিষ্ঠাতা এডভোকেট কোহেলী কুদ্দুস মুক্তিসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানাই।

এছাড়া বির্তক প্রতিযোগিতায় দুই উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মোট ২০টি দল অংশ গ্রহণ করে। মাস ব্যাপি বিভিন্ন ভেনুতে মোট ২২জন বিচারক মন্ডলী ও কলা কৌশলীদের সমন্বয়ে চলে এই কার্যক্রম। বির্তক প্রতিযোগিতায় সর্ব শেষ গুরুদাসপুর উপজেলার হাসমারী মফিজ উদ্দিন মডেল উচ্চ বিদ্যালয়কে হারিয়ে বড়াইগ্রাম উপজেলার আগ্রাণ উচ্চ বিদ্যালয় (জাতীয় পর্যায়ে বির্তকে রানারআপ) ফাইনাল রাউন্ডে বিজয়ী হয়। এতে শ্রেষ্ঠ বক্তা নির্বাচিত হয় যৌথভাবে দলনেতা তামান্না তাবাচ্ছুম লিমু ও সুমাইয়া সুলতানা সেতু। বির্তকের বিষয় ছিলো “নৈতিক অবক্ষয়ই দুর্ণীতি বিস্তারের প্রধান কারণ” ৩১ মার্চ এক জমকালো আয়োজনের মাধ্যমে চুড়ান্ত পর্ব শেষে হয়। বিতর্ক প্রতিযোগিতা পরিচালনায় ছিলেন টেস্ট ইউনিভারসিটি অব বাংলাদেশ ডিবেট সোসাইটির সাবেক সভাপতি মোঃ নজরুল ইসলাম,বংলাদেশ প্রতিকী বির্তক সংঘের সাবেক সভাপতি ও উপদেষ্টা আবু সালেহ মুসা। এছাড়া মডারেটরের দায়িত্বে ছিলেন রোজী মোজাম্মেল মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যপক রুহুল করিম আব্বাসী তুহিন,

সহযোগিতায় ছিলেন কল্লোল ডিবেট সোসাইটির সভাপতি তাহের সিদ্দিকী ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শারমিন আক্তারসহ স্থানীয় বিচারক বৃন্দ। পুরুস্কার বিতরণ শেষে ভারত-বাংলাদেশ শিল্পীদের সমন্বয়ে জমকালো সংগীতায়জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় মাস ব্যাপি চলা এই মহতী আয়োজনের। অনুষ্ঠানটির সহযোগিতায় ছিলেন প্রাণ কোম্পানী বাংলাশে লিমিটেড।

আপনার মতামত লিখুন :