ক্লাশের পড়া না করায় শিশুকে বেত্রাঘাত

গুরুদাসপুর সরকারী মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকের কান্ড

মোঃ মাজেম আলীমোঃ মাজেম আলী
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৯:৩৪ PM, ১৬ জুন ২০২২

গুরুদাসপুর(নাটোর) প্রতিনিধি. নাটোরের গুরুদাসপুরে ক্লাশে পড়া না পারায় এইচ এম তালহা জুবায়ের (৮) নামে দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্রকে বেত্রাঘাত করার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বৃহষ্পতিবার সকালে গুরুদাসপুর সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজি ক্লাশে ওই ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম মোর্শেদুল ইসলাম (৫০)। তিনি খন্ডকালীন শিক্ষক। নির্যাতনের শিকার জুবায়ের গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মতিন ও আসমা সিদ্দিকা দম্পত্তির ছেলে।

শিশুটির মা আসমা সিদ্দিকী অভিযোগ করে জানান, বুধবার সহপাঠীদের সাথে খেলতে গিয়ে ডান হাতে চোট পায় তাঁর ছেলে জুবায়ের। একারনে রাতে ক্লাশের পড়া (হোম ওয়ার্ক) শেষ করতে পারেনি। ফলে বৃহষ্পতিবার বিদ্যালয়ে যেতে অনীহা ছিল। তবু বুঝিয়ে ছেলেকে বিদ্যালয়ে নিয়ে যান। বিষয়টি প্রধান শিক্ষককে অবগত করে বিদ্যালয়ে অপেক্ষায় থাকেন ছেলের জন্য।

কিন্তু বেলা ১১টার দিকে ইংরেজি বিষয়ে পাঠদানের সময় তাঁর ছেলের চোট পাওয়া হাতে বেত্রাঘাত করেন শিক্ষক মোর্শেদুল ইসলাম। বেত্রাঘাতের কারনে ব্যাথা পাওয়ায় ক্লাশে চিৎকার করে ওঠে ছেলে জুবায়ের। ক্লাশ শেষে বের হয়ে কান্নায় ভেঙেপড়ে ছেলে। বিষয়টি প্রধান শিক্ষককে জানিয়ে বাড়ি ফিরেন আসেন তিনি।
জুবায়েরের বাবা আব্দুল মতিন জানান ‘ শিশুদের ব্রেতাঘাতের সুযোগ নেই। তার পরও ছেলেকে নির্যাতন সইতে হয়েছে, এটা দুঃখজনক। বিষয়টি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তমাল হোসেনকে জানানো হয়েছে।’
শিশুকে বেত্রাঘাতের অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত শিক্ষক মোর্শেদুল ইসলাম দাবি করে বলেন ‘ শিশুকে বেত্রাঘাত করা হয়নি। হয়তো সহপাঠীদের সাথে দুষ্টমী করতে গিয়ে চোট পাওয়া হাতে ব্যাথা পেয়ে চিৎকার করেছে।’

প্রধান শিক্ষাক গোলাম মোর্তজা বলেন, শিশুকে বেত্রাঘাতের অভিযোগ উঠার পর ওই খন্ডকালীন শিক্ষক মোর্শেদুল ইসলামকে বিদ্যালয় থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন ‘ অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খ.ম জাহাঙ্গীর আলমকে নিদের্শ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

আপনার মতামত লিখুন :