হত্যার মামলার সাক্ষীকে আদালত চত্বরে মারধর ৯৯৯ কল দিয়ে রক্ষা

জালাল হত্যার স্বাক্ষী বাবুকে কোর্ট চত্বরে মারধর

মোঃ মাজেম আলীমোঃ মাজেম আলী
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১০:৪৫ PM, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২

গুরুদাসপুর(নাটোর)প্রতিনিধি
নাটোরে কোর্টে পিতা হত্যার সাক্ষ্য দিতে গিয়ে ছেলেকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) নাটোর আদালত চত্বরের একটি চায়ের দোকানে ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করে বৃহস্পতিবার রাতে নাটোর সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন বাবু মণ্ডল।

অভিযোগসূত্রে জানা যায়, গুরুদাসপুর উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের যোগেন্দ্রনগর গ্রামের মৃত জালাল মণ্ডল একই এলাকার প্রতিপক্ষদের দ্বারা খুন হন দুই বছর আগে। হত্যা মামলার সাক্ষী মৃত জালাল মণ্ডলের ছেলে বাবু মণ্ডল।

বৃহস্পতিবার নাটোর কোর্টে বাবার হত্যা মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ছিল। তারিখ পরিবর্তন হওয়ায় কোর্ট চত্বর থেকে বেরিয়ে এসে একটি চায়ের দোকানে চা খাচ্ছিলেন বাবু মন্ডল ও তার স্বজনরা। সেই মুহুর্তে যোগেন্দ্রনগর এলাকার সাইদুল রহমান, শহিদুল ইসলাম ওরফে ভুম্বু, মাহাবুর রহমান, মোশারফ হোসেন, রেজাউল করিম বাঘা, আতিক ও আশরাফুল ইসলাম জল্লাদ নামের কয়েকজন ব্যক্তি বাবু মণ্ডল ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

ঘটনাস্থল থেকে বাবু মণ্ডলের চিকৎকারে চারপাশের মানুষ এগিয়ে আসলে প্রতিপক্ষরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় একটি চিকিৎসালয়ে চিকিৎসা নেন বাবু মণ্ডল।
বাবু মণ্ডল জানান, আমার বাবা জালাল মণ্ডল সুফিয়া বেগম নামের এক মহিলাকে নির্মমভাবে হত্যা করা সাক্ষী ছিলো । ওই সাক্ষী দিতে যাবার পথে আমার বাবাকে উক্ত ব্যক্তিরা হত্যা করে। সেই হত্যা মামলার সাক্ষী হিসেবে আমিও আছি। আমাকে সাক্ষ্য দিতে অনেকবার বাঁধা প্রদান করেছে প্রতিপক্ষরা। এমনকি নাটোর গিয়েও আমাকে বলে সাক্ষ্য না দিতে। সাক্ষ্য দিলে আমাকেও আমার বাবার মতো হত্যা করবে। আমি প্রতিপক্ষদের নিষেধ না শোনার কারণে আমার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আমি আমার ওপর অতর্কিত হামলা ও আমার বাবা হত্যাকারীদের বিচার দাবি করছি।

ঘটনা টি নিশ্চিত করে নাটোর কোর্টের পুলিশ পরিদর্শক নাজমুল হক জানান, মারধরের ঘটনা জানতে পেরে বাবু ও তার স্বজনদের কে উদ্ধার করে নাটোর থানায় পাথিয়েছি। কিন্তু চা এর স্টলটি একটু বাহিরে হওয়ায় আক্রমণ কারিদের ধরা সম্ভব হয়নি।

বাবু মন্ডলের স্বজন মো,দুলাল মোল্লা জানান, আদালত চত্বরে মারধরের ঘটনায় ত্রিপুল নাইনে কল করলে পুলিশ এসে আমাদের রক্ষা করে। আসামীরা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী। ওই ভুম্বু, জল্লাদ,বাঘা ও সাইদুল এলাকায় হত্যা, মাদক,চুরি, ডাকাতি ছিনতাই এমন কোন অপরাধ নেই যে তারা করে না। অথচ পুলিশের নাকের ডগা দিয়ে এখনো ঘুরে বেরাচ্ছে। এদের ভয়ে এলাকার লোকজন সব সময় আতংকে থাকে।

অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পক্ষে শহিদুল ইসলাম দাবি করেন, বাবু মণ্ডল মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে তাদের নামে।

নাটোর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. নাসিম আহমেদ জানান, বাবু মণ্ডল নামের এক যুবক এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

 

আপনার মতামত লিখুন :