সাইদুল, ভুম্বু আর জল্লাদের রাজত্বে অসহায় এলাকাবাসী

মোঃ মাজেম আলীমোঃ মাজেম আলী
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৪:৩৬ PM, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি.  প্রতিবেশী সফুরা হত্যা মামলায় সাক্ষী দিতে গিয়ে জীবন দিতে হয়েছে বাবা জালাল মন্ডলকে। সেই বাবা হত্যার সাক্ষী দিতে গিয়েই আবারো সাইদুল,ভুম্বু, জল্লাদের রসানলে পরতে হলো জালালের এক মাত্র ছেলে বাবু মন্ডলকে। মাদক বিক্রি, চুরি ছিন্তাই,রোড ডাকাতি, অবৈধ্য অস্ত্র, প্রকাাশ্যে দিবালোকে খুন- জখম এমন কোন মামলা নেই যে তাদের নামের সাথে যোগ হয়নি। তবুও প্রকাশ্যে দাপটের সাথে ঘুরে বেড়াচ্ছে ওই সব চিহিৃত সন্ত্রাসীরা। একের পর এক সন্ত্রসী কার্যলাপ করেও পার পেয়ে যাচ্ছে তারা। প্রশাসনের নাকের ডোগায় ঘুড়ে বেড়াচ্ছে ওই সন্ত্রসীরা। এভাবেই কষ্টগুলো শেয়ার করলেন উপজেলার যোগেন্দ্রনগর উত্তর পাড়া গ্রামের ৬৫ বছরের বৃদ্ধ জয়নাল আবেদীন। ওদের ভয়ে নামটি পর্যন্ত উৎচারণ করার সাহস পায়না না এলাকার লোকজন এমনকি জনপ্রতিনিধিরাও।

জালাল হত্যার সাক্ষী তার ছেলে বাবু মন্ডল জানান, ১৫ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার আদালতে যাওয়ার পথে সকাল ৯টার দিকে একদল সন্ত্রাসী সাক্ষী না দেবার জন্য তার বাবার মতো জানে মেরে ফেলার হুমকী দেয়। এসময় তাদের কথা না শুনে নাটোর কোর্টে যায় বাবু। সেখানে কোর্ট চত্বরে এক চায়ের দোকানের পাশেই চা খেতে বসলে নাটোরের স্থানীয়দের সহযোগিতায় তার বাবা হত্যা মামলার অন্যতম আসামী শহিদুল ইসলাম ওরফে ভুম্বু(৩২), আশরাফুল মন্ডল ওরফে জল্লাদ(৩৮) সাইদুল মন্ডল(৩৭), মাহাবুর(২২) ও আতিক(২৫) তাকে মারধর করে। পরে ৯৯৯ এ কল করে প্রাণে রক্ষা পান তিনি। এবিষয়ে নাটোর কোর্টের পুলিশ পরিদর্শক মোঃ নাজমুল হকের সহযোগিতায় নাটোর সদর থানায় সাধারণ ডায়েরী করা হয়। আসামীগণ সকলে উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের যোগেন্দ্রনগর গ্রামের সফুরা বেগম হত্যা, জালাল হত্যা, মিজান নামের এক যুবককে চাকু মারা,হরদোমা গ্রামের মোজামকে প্রকাশ্যে দিবালোকে কুপিয়ে পঙ্গু করা,,ট্রাক ছিনতাই ও মাদক চোরা কারবারি মামলার অন্যতম আসামী।

অনুসন্ধানে জানাযায় ২০১৩ সালের ১৩মে সফুরা বেগমকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেয় সন্ত্রাসীরা। সেই সাক্ষি দিতেই ১৩ জুন ২০১৯ সালে বাড়ি থেকে নাটোর আদালতে যাওয়ার পথে দিবালোকে যেগেন্দ্রনগর গ্রামের আকন্দ মেম্বরের ছেলে জালালকে কুপিয়ে দুই হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন ও পায়ের রগ কেটে হত্যা করে ওই সন্ত্রাসীরা। জালালের চাচাতো ভাই মিজান জানান, একই বছর ১১ ডিসেম্ব বিকেল ৪ টার দিকে রাবারড্যাম এলাকার স্থানীয় চা দোকান্দার মঞ্জুর স্টলে তাকেও কুপিয়ে যখম করে ওই সন্ত্রসী বাহিনীর সদস্যরা। মিজান তাদের বিরুদ্ধে গুরুদাসপুর থানায় মামলা করেছে বলে জানান। হরদোমা গ্রামের মৃত্য কোবাদ হাজীর ছেলে মোজাম্মেল হক মোজাম জানান, ২০২০ সালে সাব গাড়ী হাটের পিছনে সকাল ১১ টার দিকে কুপিয়ে হাত পা কেটে পুঙ্গু করে রেখেছে আমাকে। এব্যাপারে আমি ওই সময় গুরুদাসপুর থানায় মামলা করেছি। কিন্তু আজ পর্যন্তও বিচার পাইনি । ৩১ জুলাই ২০২২ বিলহরি বাড়ি গ্রামের আয়েজ উদ্দিনের ছেলে পলাশ ও একই গ্রামের আসকানের ছেলে হাসানের সাথে মাদকের বিরোধে বাইক থেকে নামিয়ে কুপিয়ে যখম করে বলে অনুসন্ধানে জানাযায়। উক্ত ঘটনা ছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে ট্রাক ছিনতাই, মাদক চোরা কারবারিসহ প্রায় ১২টির উপরে মামলা রয়েছে গুরুদাসপুর থানাসহ নাটোর কোর্টে।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক কয়েকজন এলাকা বাসী জানান, বিগত জামায়াত বিএনপির শাসন আমলেও এরা দিবালোকে যোগেন্দ্র নগরের বলাই প্রামানিকের দু চোখ তুলে ফেলে। ওই চক্রটিই বর্তমানে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি করলেও পুলিশ কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। প্রতিবাদ করতে গেলে উল্টো হয়রানীতে শিকার হচ্ছে এলাকা বাসী।

এবিষয়ে আসামী সাইদুর রহমান ও মাহাবুর রহমান জানান, উল্টো দাবি কওে বলেন, জমি সংক্রান্ত জেরে জালাল ও বাবু মন্ডলসহ আমার ভাই মমিন মন্ডলকে হত্যা করেছিলো। এখন আমাদের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে যাচ্ছে যার কোন সত্যতা নেই। আমরা হত্যা,মাদকের সাথে জরিত নই। এসব বিষয়ে নিউজ না করার জন্য অনুরোধও করেন তারা।

এব্যাপারে যোগেন্দ্রনগর ৭ নম্বর ওয়ার্ডেও ৩ বারের ইউপি সদস্য মোঃ বেলাল হোসেন কোন কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বিয়াঘাট ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ফোন না ধরলেও সাবেক চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক জানান, উক্ত ব্যাক্তিরা বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। এ নিয়ে এলাকার লোকজন তাদের কাছে জিম্মি হয়ে পরেছে। এলাকার সচেতন সমাজ আইন শৃঙখলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল মতিন জানান, উক্ত ব্যাক্তিদের বিষয়ে অবগত আছি। কিন্তু অধিকাংশ আসামী জামিনে রয়েছে যার কারনে তাদেরকে গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছে না।

আপনার মতামত লিখুন :