রৌমারীর ব্রহ্মপুত্র নদে পারের ফসলি জমি হুমকির মুখে

বনলতা নিউজ ডেস্ক.বনলতা নিউজ ডেস্ক.
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৬:৪৯ PM, ১৯ নভেম্বর ২০২২

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি. নদ-নদীসহ বিভিন্ন স্থান থেকে বালু উত্তোলন বন্ধে সরকারের ও উচ্চ আদালতের কড়া নিদের্শনা থাকলেও কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় এক শ্রেণীর বালু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ড্রেজার ও কাকড়া গাড়ী (ট্রাক্টর) দিয়ে ধুমধামে বালু উত্তোলন করছেন। প্রভাবশালীদের অনুমোদনে বালু উত্তোলন চালু রয়েছে। এ নিয়ে বালু উত্তোলনে প্রশাসনের সাথে চলছে লুকোচুরি।

শনিবার সরজমিনে গিয়ে জানা গেছে, বর্ষা মৌসুমে পানি বাড়ার সাথে সাথে ব্রহ্মপুত্র নদ, সোনাভরী, হলহলি, জিঞ্জিরামসহ ছোট নদীর তীব্র ¯্রােত বেড়ে যাওয়ায় ভাঙ্গন শুরু হয়। এতে হুমকির মুখে পড়ে চরশৌলমারী, বন্দবেড় ও যাদুরচর ইউনিয়নের খেরুয়ারচর, ঘুঘুমারী, খেদাইমারী, বলদমারা, বাগুয়ারচর, পশ্চিম খনজনমারা, ফলুয়ারচর, পালেরচর, কুটিরচর, বাঘমারা, মিয়ারচর মুখতোলা, দিগলাপাড়া, ধনারচর, বকবান্দাসহ প্রায় ১৭ টি গ্রামের প্রায় ৬০ হাজার মানুষ।

জানা যায় দীর্ঘদিন থেকে উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে একটি বালু উত্তোলন চক্র ব্রহ্মপুত্র নদের ঘুঘুমারী থেকে বলদমারা হয়ে ফলুয়ারচর নৌকাঘাট পযর্ন্ত প্রতিদিন অবৈধ ড্রেজার ও কাকড়ার মাধ্যমে বালু উত্তোলন করছেন। উত্তোলনকৃত বালু মাটি উপজেলার প্রায় অর্ধশতাধিক ট্রাক্টর দিয়ে পরিবহন করে বিক্রয় করে। বর্তমানে ফলুয়ারচর নৌকা ঘাটে বালু উত্তোলন নিয়ে উশেত্তজনা বিরাজ করছে তিনটি পক্ষের মধ্যে। অপরদিকে ট্রাক্টর চলাচলে রাস্তা গুলি ভেঙ্গে যাওয়ায় মানুষ চরম ভোগান্তিতে রয়েছে। একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্র ছাঁয়ায় জমজমাট ভাবে বালু ব্যবসায়ীরা লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এ অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে স্থায়ী কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন। বালু ব্যবসায়ী চক্রে জড়িত কুটিরচর গ্রামের বালু মামলার হাজতবাস অন্যতম বাবলু মিয়া, প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে সর্বক্ষণ বালু উত্তোলন করেন বলা অভিযোগ করেন অনেকে।

এদিকে বালু উত্তোলনের সাথে জরিত কবির হোসেন, বাগুয়ারচর গ্রামের সিরাজুল ইসলাম, বাগুয়ারচর গ্রামের হায়দার আলী, বাইটকামারী গ্রামের আমজাদ হোসেন, বাগুয়ারচর গ্রামের রফিকুল, দিগলাপাড়া গ্রামের কামাল উদ্দিন, ধনারচর ও গ্রামের আজিবর রহমান বাইটকামারী গ্রামের আফসার আলী, দুবলাবাড়ী গ্রামের ইব্রাহীম, জন্তির কান্দা গ্রামের বাবু মিয়া, বোল্লাপাড়া, নুরনবী,হাসান আলী, আব্দুর রাজ্জাক, শাহা আলম, তারিকুল্যাহ, কালাম, নাসির উদ্দিন, কাশেম, মাজম আলী, কুটিরচর খানপাড়া এলাকার ছবির খান, ছোরমান খান, রিয়াজুল হক, ফলুয়ারচর গ্রামের আবু সাইদ মিয়া, বাগুয়ারচর গ্রামের জিয়াউরসহ আরও অনেকে।
স্থানীয় এলাকাবাসি অভিযোগ করে বলেন, ধনারচর গ্রামের সামছুল আলম, লিয়াকত হোসেন, কুটিরচর গ্রামের জিয়ারুল ইসলাম বাগুয়ারচর গ্রামের আমজাদ হোসেন, আব্দুস সবুর, বলদমারা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা বদিউজ্জামান, হাফেজ আলী, চরখেদাইমারী গ্রামের আলমেজ আলী, আব্দুর রশিদসহ অনেকেই জানান, ফলুয়ারচর নৌকা ঘাট থেকে ঘুঘুমারী নৌকাঘাট পর্যন্ত নদী থেকে যেভাবে ড্রেজার ও কাকড়া দিয়ে বালু তোলা হয়, এভাবে বালু তোলা অব্যাহত থাকলে ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে অবস্থিত গ্রামগুলো নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যাওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। বালু ব্যবসায়ী চক্রদের গ্রামবাসীরা বাধা দিলে তাদেরকেও নানা ভাবে ভয়ভীতির হুমকি দিয়ে মুখ বন্ধ করে দেয়।

এবিষয়ে অভিযোগকারী জিয়ারুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন থেকে ফলুয়ারচর ঘাট আমার জমি সংলগ্ন ঘাটের কিনারা ভেঙ্গে অবৈধ কাকড়ার মাধ্যমে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এভাবে আর কয়েকদিন উত্তোলন করলে ফলুয়ারচর নৌকাঘাট বিলিন হবে। অন্যদিকে পানি বাড়ার সাথে সাথে নদের পারের মানুষ ভাঙ্গন কবলে পরবে। বালু উত্তোলনে বাধা দিলে আমাদেরকে বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি দেখায় ও মারার হুমকি দেয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার পূবন আখতারের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলন করার সংবাদ পেয়ে ঘটনা স্থলে গিয়ে দেখার পর বন্ধ করা হয়েছে। তবে পরে কেউ নির্দেশনা অমান্য করে বালু উত্তোলন করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

আপনার মতামত লিখুন :