বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রাবিতে আদিবাসী ছাত্র সংগঠনের দুই নেতার উপর হামলা

বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র অধিকার পরিষদের দুই নেতার উপর হামলা হয়েছে। এ ঘটনায় তারা পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ রাবি শাখার উপর অভিযোগ করেন। গতকাল শনিবার (১১ মে) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কুদরত-ই-খুদাভবনের সামনের রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে।

হামলায় আহতরা হলো, বৃহত্তর চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও প্রচার সম্পাদক রোনাল চাকমা ও রাবি শাখার নব গঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক শামিন ত্রিপুরার।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংগঠন সূত্রে জানা যায়, সংগঠনটির এ দুই নেতা রাত আনুমানিক সাড়ে ৯ টার দিকে রিক্সায় করে বিশ্ববিদ্যালয়ের হবিবুর রহমান হল থেকে শের-ই বাংলা হলের দিকে যাচ্ছিলেন। এসময় তারা কুদরত-ই-খুদা একাডেমিক ভবনের সামনে আসলে রিক্সার পথরোধ করে প্রায় ১৫ জন তাদের উপর হামলা চালায়। হামলাকারীদের হাতে ইট ও হাতুড়ি দেখা যায় বলে জানান তারা। পরে সেখানে থাকা সাধারণ শিক্ষার্থী তাদের উদ্ধার করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অবগত করেন। এরপর রাত ১০ টার দিকে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

এসময় হামলাকারীদের কয়েকজনকে চিনতে পারেন ভুক্তভোগী এ দুই নেতা। সুমন চাকমা, সুরেন্দ্র তঞ্চঙ্গ্যা, জিনিস চাকমা, সুদিপ্ত তঞ্চঙ্গ্যা, দিব্য চাকমা, উজ্জল তঞ্চঙ্গ্যা , বিজয় চাকমা এছাড়া আরও ১৫ জন উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ করেন তারা।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্র নেতা বলেন, বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র অধিকার পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ নাম দুটো শুনতে একই রকম মনে হলেও কিছু পার্থক্য রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ নামের এই সংগঠন সাধারণত পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি ১৯৯৭ এর পক্ষে কাজ করে। এছাড়াও এদের কর্মকান্ডে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) পক্ষের শক্তি মনে হয়। তবে, বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র অধিকার পরিষদ পাহাড়ীদের নানা আন্দোলন সংগ্রামে পাশে থাকে। নির্যাতনের বিরুদ্ধে রূখে দাড়ায়। আবার শান্তিচুক্তির সমালোচনাও করেন এবং প্রগতিশীল ধারার রাজনীতি করেন তারা।

হমলার বিষয়ে জানতে চাইলে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র অধিকার পরিষদের নব গঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক শামিন ত্রিপুরা বলেন, আমি ক্যাম্পাসে আসার প্রথম মাসেই আমাকে ফোন কলে মামলা দেওয়ার হুমকি দেয়া হয়েছিল। যত দিন যা ছিল এ নির্যাতন বাড়ছিল। কিন্তু আমি রক্ষণশীল ভাবে রাজনীতি করে এগিয়েছি।বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে জ্ঞান চর্চা এবং মুক্ত বুদ্ধির প্রগতিশীল রাজনীতি করার সুযোগ ছিল সেখানে এ হামলা নেক্কারজনক। এদেশে আমরা বিচার হীনতা ও দায় মুক্তি সব সময়ই দেখতে পাই। তবে এ ঘটনার বিচার আমরা চাই।

মারধরের বিষয় স্বীকার করে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের রাবি শাখার সভাপতি জিনিস চাকমা বলেন, আমরা ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন যাবৎ ক্যাম্পাসে পাহাড়ি ছাত্রদের নানা অধিকারের বিষয়ে কথা বলে আসছি। নতুন এই সংগঠনটি কাল হঠাৎ বহিরাগতদের দিয়ে সম্মেলন করে তাদের নতুন কমিটি ঘোষণা করেন। এবিষয়ে আলাপ করতে রিক্সায় যাওয়ার পথে শামিন ত্রিপুরাকে ডাক দেই। তবে তিনি ডাক না শোনায় আমরা জোর করে রিক্সা থামাই। এসময় শামিন ধাক্কা লেগে রিক্সা থেকে পড়ে যায়। এসময় আমাদের ভিতর একটু বাক বিতন্ডা ও হাতাহাতি হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, তবে তারা বিষয়টা যেভাবে প্রচার করছেন বিষয়টা এমন ছিল না মোটেই। আমরাই প্রক্টরকে ফোন দিয়ে তাদের চিকিৎসার ব্যাবস্থা করি।

এ ঘটনার তারা প্রক্টর বরাবর একটা লিখিত অভিযোগ জমা করেছেন বলে জানিয়েছেন। এছাড়াও ঘটনার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবি জানিয়ে আজ রবিবার (১২ মে) প্বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেটে সমাবেশ করে সংগঠনটি। এসময় তাদের প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি শাকিল হোসেন, ও ছাত্র ইউনিয়নের যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিব হোসেন।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক বলেন, তাদের নিয়ে একটা অভিযোগ পেয়েছি। আমি তাদেরকে একটা লিখিত অভিযোগ জমার নির্দেশনা দিয়েছি। আমি এখনো অভিযোগপত্র হাতে পাইনি। আমি বিভাগের কাজে একটু ব্যাস্ততায় অফিসে যেতে সন্ধ্যে ৭টা বাজবে। যেহেতু আমরা পাহাড়িদের সম্পর্কে তুলনামূলক কম জানি। তাই অভিযোগ হাতে না পেয়ে কিছু বলতে পারব না আপাতত।

Tag :
About Author Information

Daily Banalata

Popular Post

রাবিতে আদিবাসী ছাত্র সংগঠনের দুই নেতার উপর হামলা

Update Time : ০৮:৫৪:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ মে ২০২৪

বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র অধিকার পরিষদের দুই নেতার উপর হামলা হয়েছে। এ ঘটনায় তারা পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ রাবি শাখার উপর অভিযোগ করেন। গতকাল শনিবার (১১ মে) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কুদরত-ই-খুদাভবনের সামনের রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে।

হামলায় আহতরা হলো, বৃহত্তর চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও প্রচার সম্পাদক রোনাল চাকমা ও রাবি শাখার নব গঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক শামিন ত্রিপুরার।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংগঠন সূত্রে জানা যায়, সংগঠনটির এ দুই নেতা রাত আনুমানিক সাড়ে ৯ টার দিকে রিক্সায় করে বিশ্ববিদ্যালয়ের হবিবুর রহমান হল থেকে শের-ই বাংলা হলের দিকে যাচ্ছিলেন। এসময় তারা কুদরত-ই-খুদা একাডেমিক ভবনের সামনে আসলে রিক্সার পথরোধ করে প্রায় ১৫ জন তাদের উপর হামলা চালায়। হামলাকারীদের হাতে ইট ও হাতুড়ি দেখা যায় বলে জানান তারা। পরে সেখানে থাকা সাধারণ শিক্ষার্থী তাদের উদ্ধার করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অবগত করেন। এরপর রাত ১০ টার দিকে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

এসময় হামলাকারীদের কয়েকজনকে চিনতে পারেন ভুক্তভোগী এ দুই নেতা। সুমন চাকমা, সুরেন্দ্র তঞ্চঙ্গ্যা, জিনিস চাকমা, সুদিপ্ত তঞ্চঙ্গ্যা, দিব্য চাকমা, উজ্জল তঞ্চঙ্গ্যা , বিজয় চাকমা এছাড়া আরও ১৫ জন উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ করেন তারা।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্র নেতা বলেন, বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র অধিকার পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ নাম দুটো শুনতে একই রকম মনে হলেও কিছু পার্থক্য রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ নামের এই সংগঠন সাধারণত পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি ১৯৯৭ এর পক্ষে কাজ করে। এছাড়াও এদের কর্মকান্ডে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) পক্ষের শক্তি মনে হয়। তবে, বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র অধিকার পরিষদ পাহাড়ীদের নানা আন্দোলন সংগ্রামে পাশে থাকে। নির্যাতনের বিরুদ্ধে রূখে দাড়ায়। আবার শান্তিচুক্তির সমালোচনাও করেন এবং প্রগতিশীল ধারার রাজনীতি করেন তারা।

হমলার বিষয়ে জানতে চাইলে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র অধিকার পরিষদের নব গঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক শামিন ত্রিপুরা বলেন, আমি ক্যাম্পাসে আসার প্রথম মাসেই আমাকে ফোন কলে মামলা দেওয়ার হুমকি দেয়া হয়েছিল। যত দিন যা ছিল এ নির্যাতন বাড়ছিল। কিন্তু আমি রক্ষণশীল ভাবে রাজনীতি করে এগিয়েছি।বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে জ্ঞান চর্চা এবং মুক্ত বুদ্ধির প্রগতিশীল রাজনীতি করার সুযোগ ছিল সেখানে এ হামলা নেক্কারজনক। এদেশে আমরা বিচার হীনতা ও দায় মুক্তি সব সময়ই দেখতে পাই। তবে এ ঘটনার বিচার আমরা চাই।

মারধরের বিষয় স্বীকার করে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের রাবি শাখার সভাপতি জিনিস চাকমা বলেন, আমরা ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন যাবৎ ক্যাম্পাসে পাহাড়ি ছাত্রদের নানা অধিকারের বিষয়ে কথা বলে আসছি। নতুন এই সংগঠনটি কাল হঠাৎ বহিরাগতদের দিয়ে সম্মেলন করে তাদের নতুন কমিটি ঘোষণা করেন। এবিষয়ে আলাপ করতে রিক্সায় যাওয়ার পথে শামিন ত্রিপুরাকে ডাক দেই। তবে তিনি ডাক না শোনায় আমরা জোর করে রিক্সা থামাই। এসময় শামিন ধাক্কা লেগে রিক্সা থেকে পড়ে যায়। এসময় আমাদের ভিতর একটু বাক বিতন্ডা ও হাতাহাতি হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, তবে তারা বিষয়টা যেভাবে প্রচার করছেন বিষয়টা এমন ছিল না মোটেই। আমরাই প্রক্টরকে ফোন দিয়ে তাদের চিকিৎসার ব্যাবস্থা করি।

এ ঘটনার তারা প্রক্টর বরাবর একটা লিখিত অভিযোগ জমা করেছেন বলে জানিয়েছেন। এছাড়াও ঘটনার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবি জানিয়ে আজ রবিবার (১২ মে) প্বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেটে সমাবেশ করে সংগঠনটি। এসময় তাদের প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি শাকিল হোসেন, ও ছাত্র ইউনিয়নের যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিব হোসেন।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক বলেন, তাদের নিয়ে একটা অভিযোগ পেয়েছি। আমি তাদেরকে একটা লিখিত অভিযোগ জমার নির্দেশনা দিয়েছি। আমি এখনো অভিযোগপত্র হাতে পাইনি। আমি বিভাগের কাজে একটু ব্যাস্ততায় অফিসে যেতে সন্ধ্যে ৭টা বাজবে। যেহেতু আমরা পাহাড়িদের সম্পর্কে তুলনামূলক কম জানি। তাই অভিযোগ হাতে না পেয়ে কিছু বলতে পারব না আপাতত।