বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের উৎসব ভাতা-বাড়ি ভাড়ার বৈষম্য নিরসন কি আশ্বাসেই শেষ হবে?

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের উৎসব ভাতা ও বাড়ি ভাড়ার বৈষম্য নিরসনে বার বার আশ্বাস দিয়েছেন ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতারা। এভাবে একের এক প্রতিশ্রুতির আস্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। এরকম বৈষম্য পৃথিবীর আর কোন দেশে আছে বলে জানা নেই। প্রতিবেশী দেশগুলোর দিকে তাকালেই বোঝা যায় এর ফারাক কতটুকু। অথচ দেশের ৯৭% শিক্ষা মাধ্যমিকসহ উচ্চ শিক্ষা এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা দিয়ে আসছেন। অধিকার বঞ্চিত তো হচ্ছেই সেই সাথে দ্রব্যমুল্যর সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে হিমসিম খেতে হচ্ছে তাদের।

শুধু নামের আগে শিক্ষক শব্দটা যুক্ত থাকার ফলে রিকসা ওয়ালা বলছে স্যার আপনি চাকুরী করে যদি ১০টাকা ভাড়া দেন তাহলে অমরা যাবো কোথায়। অথচ একজন রিকসা ওয়ালা দিন শেষে ৭ থেকে ৮শত টাকা ভাড়া পান। সে হিসেবে তার মাসিক আয় ২৪ হাজার টাকা। অথচ একজন মাধ্যমিক শিক্ষকের বেতন মাত্র ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা। তাহলে গুরু বা সম্মানি ব্যাক্তির তকমা দিয়ে লাভ আছে ? একই সমাজে বাস করে কাউকে তো আর নিত্যপণ্যের দাম কম দিবে না। বরং ওই রিকসা ওয়ালারাই সরকারী সুযোগ সুবিধাগুলো পাবে। জনপ্রতিনিধিরা তো আর শিক্ষকদের দিবে না।

যাইহোক আসার দুয়ারে বাঁধিয়াছি ঘর এই বানীতে বিস্বাস রাখতে হচ্ছে। সমপ্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা কবির বিন আনোয়ার, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক শামছুন্নাহার চাঁপার সঙ্গে শিক্ষক নেতাদের আলোচনায় সরকারি-বেসরকারি শিক্ষকদের মধ্যে থাকা বৈষম্য নিরসনের আশ্বাস এসেছে। এ আশ্বাস পেয়ে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের দিকে চেয়ে আছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা।

সম্প্রতি দৈনিক শিক্ষাডটকমের এক প্রতিবেদনে জানাযায়, রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষক সংগঠন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির (বিটিএ) সাধারণ সম্পাদক শেখ কাওছার আহমেদকে সরকারি-বেসরকারি শিক্ষকদের মধ্যে থাকা উৎসব ভাতা, বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতার যে বৈষম্যগুলো আছে তা দূর করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা।শিক্ষামন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক একমত হয়েছেন এ বৈষম্যগুলো দূর করার ব্যাপারে। আর জাতীয়করণের বিষয় যে কমিটি গঠনের ঘোষণা সরকারের পক্ষ থেকে এসেছিল তাতে শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে তারা আশ্বস্ত করেছেন।সেই সাথে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের এসব বৈষম্য দূর করতে কতো টাকা প্রয়োজন হবে তা কমিটি যাচাই-বাছাই করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে পেশ করবে। এধরনের ভন্ডামী আর কত করবেন শিক্ষকদের সাথে। মিথ্য আস্বাস না দিয়ে বরং সত্য কথাটিই বলা শ্রেয়।

ব্রিফিংয়ে সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী ও বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল জানান, আমাদের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার বড় অংশ পরিচালিত হয় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। তবে সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষকদের মধ্যে বেতন ভাতার কিছু পার্থক্য আছে।যেগুলো নিরসন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেগুলো আমরা নিজেরাও অনুধাবন করি। এর জন্য যে আর্থ প্রয়োজন তা নিরূপণে ইতোমধ্যেই আমরা একটি কর্মশালা করেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। যে কমিটি আর্থিক বিষয়টা নিয়ে কাজ করছে। আমাদের আগে দেখতে হবে সরকারি শিক্ষকের সঙ্গে বেসরকারি শিক্ষককে আর্থিক সুবিধার যে পার্থক্য আছে সেটি কিভাবে নিরসন করা যায়। সেটি আমাদের নিরসন করতে হবে। সরকারি শিক্ষকদের সঙ্গে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের উৎসব ভাতা, বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতার পার্থক্যগুলো আছে তা কিভাবে আমরা কমিয়ে আনতে পারি সে বিষয়ে প্রতিবেদন পাওয়া মাত্রই যেভাবে অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে তার সঙ্গে সঙ্গে এটারও পরিবর্তন হবে। এই বৈষম্যগুলো কিভাবে নিরসন করা যায় সে বিষয়টি আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হবে।

সরকারি-বেসরকারি শিক্ষকদের মধ্যে কোন কোন বৈষম্য দূর করা হবে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, জাতীয়করণের বিষয়ে যে কমিটি হয়েছে ওই কমিটির রিপোর্টের আলোকে বৈষম্য দূর করা হবে।

তিনি আরো বলেন, আমরা শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমাদের শিক্ষকদের আমরা সবসময়ই সম্মানের চোখে দেখি। তাদের ব্যথায় আমরা ব্যথিত। তাদের ক্রন্দন আমাদের সবাইকে ভাবিয়েছে। সরকারি-বেসরকারি শিক্ষকদের বৈষম্য থাকা উচিত নয়। এ বৈষম্য নিরসন করা হবে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা কবির বিন আনোয়ার বলেছিলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সব সময় শিক্ষাবান্ধব। তার নেতৃত্বে আমরা শিক্ষাকে এই পর্যায়ে নিয়ে আসতে পেরেছি। শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়ন হচ্ছে। শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসু হয়েছে। শিক্ষকরা তাদের দাবি দাওয়ার কথা আমাদের জানিয়েছেন। আমি আশা করছি খুব দ্রুতই ওই সমস্যাগুলোর সমাধান হবে।

ইতিপুর্বেও বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির (বিটিএ)সহ বিভিন্ন সমিতির ব্যানারে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা জাতীয়কণের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন শুরু করেন কয়েক হাজার শিক্ষক। সাবেক শিক্ষামন্ত্রীরা দফায় দফায় তাদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানালেও রাজপথ ছাড়েননি শিক্ষকরা। তারা গণঅনশন কর্মসূচি পালন করেছেন, প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনার পর সেই আশ্বাস পেয়ে ক্লাসে ফিরেও গিয়েছেন।অথচ কাজের কাজটি আজও বাস্তবায়ন হয়নি।

শিক্ষকরা বলছেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মাত্র ২৫ শতাংশ উৎসব ভাতা, ১ হাজার টাকা বাড়ি ভাড়া ও ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পান। একই কারিকুলামে একই সিলেবাসে পাঠদান করিয়েও সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনে রয়েছে বিস্তর পার্থক্য। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রধানদের থেকে এক ধাপ নিচে বেতন দেয়া হচ্ছে। বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসরে যাওয়ার পর অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা পেতে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়।তাছাড়া বিগত কয়েক বছর ধরে অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্ট খাতে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন থেকে অতিরিক্ত ৪ শতাংশ কেটে নেয়া হচ্ছে। এর প্রতিবাদ করা হলেও প্রতিকার পাওয়া যায়নি।

বর্তমান সরকার স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন। স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে হলে শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। শিক্ষাব্যবস্থা স্মার্ট করতে প্রয়োজন স্মার্ট শিক্ষক। তাই শিক্ষকের জীবনমান উন্নয়ন করতে হবে।তাদের অধিকার বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে।

Tag :
About Author Information

Daily Banalata

Popular Post

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের উৎসব ভাতা-বাড়ি ভাড়ার বৈষম্য নিরসন কি আশ্বাসেই শেষ হবে?

Update Time : ০৭:০৮:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ জুন ২০২৪

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের উৎসব ভাতা ও বাড়ি ভাড়ার বৈষম্য নিরসনে বার বার আশ্বাস দিয়েছেন ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতারা। এভাবে একের এক প্রতিশ্রুতির আস্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। এরকম বৈষম্য পৃথিবীর আর কোন দেশে আছে বলে জানা নেই। প্রতিবেশী দেশগুলোর দিকে তাকালেই বোঝা যায় এর ফারাক কতটুকু। অথচ দেশের ৯৭% শিক্ষা মাধ্যমিকসহ উচ্চ শিক্ষা এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা দিয়ে আসছেন। অধিকার বঞ্চিত তো হচ্ছেই সেই সাথে দ্রব্যমুল্যর সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে হিমসিম খেতে হচ্ছে তাদের।

শুধু নামের আগে শিক্ষক শব্দটা যুক্ত থাকার ফলে রিকসা ওয়ালা বলছে স্যার আপনি চাকুরী করে যদি ১০টাকা ভাড়া দেন তাহলে অমরা যাবো কোথায়। অথচ একজন রিকসা ওয়ালা দিন শেষে ৭ থেকে ৮শত টাকা ভাড়া পান। সে হিসেবে তার মাসিক আয় ২৪ হাজার টাকা। অথচ একজন মাধ্যমিক শিক্ষকের বেতন মাত্র ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা। তাহলে গুরু বা সম্মানি ব্যাক্তির তকমা দিয়ে লাভ আছে ? একই সমাজে বাস করে কাউকে তো আর নিত্যপণ্যের দাম কম দিবে না। বরং ওই রিকসা ওয়ালারাই সরকারী সুযোগ সুবিধাগুলো পাবে। জনপ্রতিনিধিরা তো আর শিক্ষকদের দিবে না।

যাইহোক আসার দুয়ারে বাঁধিয়াছি ঘর এই বানীতে বিস্বাস রাখতে হচ্ছে। সমপ্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা কবির বিন আনোয়ার, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক শামছুন্নাহার চাঁপার সঙ্গে শিক্ষক নেতাদের আলোচনায় সরকারি-বেসরকারি শিক্ষকদের মধ্যে থাকা বৈষম্য নিরসনের আশ্বাস এসেছে। এ আশ্বাস পেয়ে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের দিকে চেয়ে আছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা।

সম্প্রতি দৈনিক শিক্ষাডটকমের এক প্রতিবেদনে জানাযায়, রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষক সংগঠন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির (বিটিএ) সাধারণ সম্পাদক শেখ কাওছার আহমেদকে সরকারি-বেসরকারি শিক্ষকদের মধ্যে থাকা উৎসব ভাতা, বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতার যে বৈষম্যগুলো আছে তা দূর করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা।শিক্ষামন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক একমত হয়েছেন এ বৈষম্যগুলো দূর করার ব্যাপারে। আর জাতীয়করণের বিষয় যে কমিটি গঠনের ঘোষণা সরকারের পক্ষ থেকে এসেছিল তাতে শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে তারা আশ্বস্ত করেছেন।সেই সাথে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের এসব বৈষম্য দূর করতে কতো টাকা প্রয়োজন হবে তা কমিটি যাচাই-বাছাই করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে পেশ করবে। এধরনের ভন্ডামী আর কত করবেন শিক্ষকদের সাথে। মিথ্য আস্বাস না দিয়ে বরং সত্য কথাটিই বলা শ্রেয়।

ব্রিফিংয়ে সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী ও বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল জানান, আমাদের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার বড় অংশ পরিচালিত হয় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। তবে সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষকদের মধ্যে বেতন ভাতার কিছু পার্থক্য আছে।যেগুলো নিরসন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেগুলো আমরা নিজেরাও অনুধাবন করি। এর জন্য যে আর্থ প্রয়োজন তা নিরূপণে ইতোমধ্যেই আমরা একটি কর্মশালা করেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। যে কমিটি আর্থিক বিষয়টা নিয়ে কাজ করছে। আমাদের আগে দেখতে হবে সরকারি শিক্ষকের সঙ্গে বেসরকারি শিক্ষককে আর্থিক সুবিধার যে পার্থক্য আছে সেটি কিভাবে নিরসন করা যায়। সেটি আমাদের নিরসন করতে হবে। সরকারি শিক্ষকদের সঙ্গে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের উৎসব ভাতা, বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতার পার্থক্যগুলো আছে তা কিভাবে আমরা কমিয়ে আনতে পারি সে বিষয়ে প্রতিবেদন পাওয়া মাত্রই যেভাবে অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে তার সঙ্গে সঙ্গে এটারও পরিবর্তন হবে। এই বৈষম্যগুলো কিভাবে নিরসন করা যায় সে বিষয়টি আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হবে।

সরকারি-বেসরকারি শিক্ষকদের মধ্যে কোন কোন বৈষম্য দূর করা হবে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, জাতীয়করণের বিষয়ে যে কমিটি হয়েছে ওই কমিটির রিপোর্টের আলোকে বৈষম্য দূর করা হবে।

তিনি আরো বলেন, আমরা শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমাদের শিক্ষকদের আমরা সবসময়ই সম্মানের চোখে দেখি। তাদের ব্যথায় আমরা ব্যথিত। তাদের ক্রন্দন আমাদের সবাইকে ভাবিয়েছে। সরকারি-বেসরকারি শিক্ষকদের বৈষম্য থাকা উচিত নয়। এ বৈষম্য নিরসন করা হবে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা কবির বিন আনোয়ার বলেছিলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সব সময় শিক্ষাবান্ধব। তার নেতৃত্বে আমরা শিক্ষাকে এই পর্যায়ে নিয়ে আসতে পেরেছি। শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়ন হচ্ছে। শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসু হয়েছে। শিক্ষকরা তাদের দাবি দাওয়ার কথা আমাদের জানিয়েছেন। আমি আশা করছি খুব দ্রুতই ওই সমস্যাগুলোর সমাধান হবে।

ইতিপুর্বেও বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির (বিটিএ)সহ বিভিন্ন সমিতির ব্যানারে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা জাতীয়কণের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন শুরু করেন কয়েক হাজার শিক্ষক। সাবেক শিক্ষামন্ত্রীরা দফায় দফায় তাদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানালেও রাজপথ ছাড়েননি শিক্ষকরা। তারা গণঅনশন কর্মসূচি পালন করেছেন, প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনার পর সেই আশ্বাস পেয়ে ক্লাসে ফিরেও গিয়েছেন।অথচ কাজের কাজটি আজও বাস্তবায়ন হয়নি।

শিক্ষকরা বলছেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মাত্র ২৫ শতাংশ উৎসব ভাতা, ১ হাজার টাকা বাড়ি ভাড়া ও ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পান। একই কারিকুলামে একই সিলেবাসে পাঠদান করিয়েও সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনে রয়েছে বিস্তর পার্থক্য। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রধানদের থেকে এক ধাপ নিচে বেতন দেয়া হচ্ছে। বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসরে যাওয়ার পর অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা পেতে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়।তাছাড়া বিগত কয়েক বছর ধরে অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্ট খাতে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন থেকে অতিরিক্ত ৪ শতাংশ কেটে নেয়া হচ্ছে। এর প্রতিবাদ করা হলেও প্রতিকার পাওয়া যায়নি।

বর্তমান সরকার স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন। স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে হলে শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। শিক্ষাব্যবস্থা স্মার্ট করতে প্রয়োজন স্মার্ট শিক্ষক। তাই শিক্ষকের জীবনমান উন্নয়ন করতে হবে।তাদের অধিকার বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে।